১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

গত মার্চের ওই ঘটনার পর থেকে আসামি শহিদ পলাতক।

স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
আসামি মো. অলিউল্লাহ শহিদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 05:24 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

সাভারের আশুলিয়ায় গত মার্চে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা হয়েছে।

মৃত আমেনা বেগমের বোন রুবিনা বেগম মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে এই মামলা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মীর আলমগীর হোসেন বলেন, “আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।”

মামলার আর্জিতে বলা হয়, আমেনা বেগমের ২০১৮ সালে প্রথম বিয়ে হয়। পরের বছর তার স্বামী লিভার ক্যান্সারে মারা যান। তার তখন দুই মাসের একটি সন্তান ছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে আমেনা আশুলিয়ার জিরাবোর ‘আমার স্পিনিং মিলস লিমিটেড’ নামের একটি কারখানায় চাকরি নেন। তার আরেক বোন নুরজাহান বেগমও সেখানে চাকরি করেন। 

সেখানে মো. অলিউল্লাহ শহিদের সঙ্গে আমেনার দেখা হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে শহিদ আমেনাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিতেন না। গত মার্চ মাস থেকে আমেনার সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ ছিল না বলে তার বোনের ভাষ্য।  

তাদের আরেক বোন নুরজাহান বেগম মে মাসের শেষ দিকে আমেনার বাসায় যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, আমেনা ও শহিদ অন্য জায়গায় বাসা নিয়েছেন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর নুরজাহান খুঁজে পান আমেনার নতুন বাসার ঠিকানা। 

সেখানে গিয়ে আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে খবর পান, গত ২৬ মার্চ আমেনা ‘গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা’ করেছেন। এরপর থেকে শহিদ পলাতক।

পুলিশ আমেনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শিমুলতলার দরগারপাড় কবরস্থানে লাশ দাফন করে। 

মামলার আর্জিতে বলা হয়, আমেনার পরিবার আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে তথ্য পায়, শহিদ প্রায়ই আমেনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনেও মারধর করেছিলেন। 

শহিদ পরে আমেনাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

আমেনার লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের কোনো সদস্যকে না পেয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল বলে তথ্য দিয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।