Published : 03 Nov 2025, 05:55 PM
ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা, যা স্থানীয়ভাবে মিরপুর চিড়িয়াখানা নামে পরিচিত।
১৮৬.৬৩ একরের বিশাল এলাকার এই চিড়িয়াখানা শুধু প্রাণী দেখার স্থান নয় বরং শিক্ষা, গবেষণা ও প্রাণীবৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি কেন্দ্র।
পরিবার নিয়ে একটি দিন কাটানোর জন্য এটি ঢাকার একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। জাতীয় চিড়িয়াখানার ‘জ্যু অফিসার’ মো. ওবায়দুল বারী খান জানান এখানে বেড়ানো সম্পর্কে নানান তথ্য।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
১৯৫০ সালে ঢাকা হাইকোর্ট চত্বরে কয়েকটি চিত্রা হরিণ, বানর ও হাতি নিয়ে চিড়িয়াখানাটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ঈদগাহ ময়দানে স্থানান্তরিত হয় এবং ১৯৬১ সালে একটি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা শুরু হয়।
২০১৫ সালে এটি ‘বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা’ নামে পুনর্নামকরণ করা হয়। বর্তমানে এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
৭৫ হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত এই চিড়িয়াখানায় দুটি দৃষ্টিনন্দন লেক রয়েছে, যা ১৩ হেক্টর জুড়ে। এখানে ১২৬ প্রজাতির ৩,৫৫৬টি প্রাণী ও ১৩৭টি খাঁচা রয়েছে, যার মধ্যে:
স্তন্যপায়ী (৫৮ প্রজাতি): হাতি, চিতা, গন্ডার, জেব্রা, জলহস্তী, সিংহ, বেঙ্গল টাইগার, জিরাফ, কালো ভাল্লুক, শিম্পাঞ্জি, বেবুন ও বিভিন্ন হরিণ।
পাখি (৯১ প্রজাতি): ময়ূর, উটপাখি, এমু, আফ্রিকান গ্রে প্যারোট, কেসোয়ারি, শকুন, ঈগল, প্যাঁচা এবং পরিযায়ী জলপাখি।
সরীসৃপ (১৩ প্রজাতি): সাপ, কুমির।
মাছ (২৮ প্রজাতি): অ্যাকুয়ারিয়ামে প্রদর্শিত।
চিড়িয়াখানার প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীদের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় লালন-পালন করা হয়।
এছাড়া, বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণ ও প্রজননের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধা
চিড়িয়াখানাটি দর্শনার্থীদের জন্য নানান সুবিধা নিয়ে সাজানো:
তথ্য কেন্দ্র: প্রবেশদ্বারে তথ্য ও সহায়তা।
মাইকিং সার্ভিস: হারিয়ে যাওয়া জিনিসের ঘোষণা ও নির্দেশনা।
খাবার: ‘ময়ূরী’ ও ‘ঈগল’ রেস্তোরাঁয় রয়েছে স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা।
শিশু পার্ক: দোলনা, স্লিপার, মেরি-গো-রাউন্ড ও ফ্যামিলি ট্রেন।
মসজিদ ও টয়লেট: পৃথক ব্যবস্থা।
নিরাপত্তা: আনসার ও প্রহরীদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও হুইলচেয়ার: বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য।
জ্যু-মিউজিয়াম ও অ্যাকুয়ারিয়াম: দূর্লভ প্রাণীর প্রক্রিয়াজাত নমুনা ও মাছ প্রদর্শনী।
ইলেকট্রনিক লাইব্রেরি ও কনফারেন্স হল: শিক্ষা ও গবেষণার জন্য।
পার্কিং: গাড়ির জন্য ব্যবস্থা।
অন্যান্য: নিঝুম দ্বীপ, উৎসব দ্বীপ, রেস্টিং রুম।
পরিদর্শনের সময়সূচী
সাপ্তাহিক বন্ধ: রবিবার (সরকারি ছুটির দিনে খোলা থাকতে পারে)।
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর: সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা।
অক্টোবর থেকে মার্চ: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।
প্রবেশ ফি ও অন্যান্য খরচ
সাধারণ দর্শনার্থী: ৫০ টাকা।
ছাত্র-ছাত্রী (ছবিসহ পরিচয়পত্র): ২৫ টাকা।
শিক্ষা সফরে দলভুক্ত ছাত্র-ছাত্রী: বিনামূল্যে (শর্তসাপেক্ষে)।
দুই বছর পর্যন্ত শিশু: বিনামূল্যে।
প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ব্যক্তিরা: বিনামূল্যে।
শিশু পার্ক: মেরি-গো-রাউন্ড ৩০ টাকা, ট্রেন ৪০ টাকা।
মৎস্য শিকার: ২ হাজার টাকা (প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার টিকিট দেওয়া হয়)।
জ্যু-মিউজিয়াম: ১০ টাকা (দুই বছর পর্যন্ত বিনামূল্যে)।
করণীয়:
বর্জনীয়:
শিক্ষা ও গবেষণা
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা’র ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যানুসারে- চিড়িয়াখানাটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ। প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী ‘ইন্টার্নশিপে’য়ের মাধ্যমে প্রাণী সম্পর্কে হাতেকলমে শিক্ষা নেন।
যেভাবে যাওয়া যায়
মিরপুরের দিকে চলা বাসে (যেমন- সৌরভ, তরঙ্গ, বিহঙ্গ) গুলিস্তান, ফার্মগেট বা মোহাম্মদপুর থেকে সহজে পৌঁছানো যায়। এছাড়াও রয়েছে সিএনজি, অটোরিকশা বা রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা শুধু বিনোদনের স্থান নয়, এটি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের একটি কেন্দ্র। পাশাপাশি শিশুদের জন্য প্রাণীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং বড়দের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত।
আরও পড়ুন