Published : 17 Dec 2023, 12:28 PM
কাতারের মধ্যস্থতায় গাজা থেকে জিম্মি মুক্তির বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির গোয়েন্দা প্রধান এরইমধ্যে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও জানা গেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গাজার যুদ্ধ ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এবং বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে’।
গাজা থেকে হামাসকে নির্মূল করে ফিলিস্তিনের এই ছিটমহলটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রতিজ্ঞা এদিন তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, সামরিক চাপ প্রয়োগ করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প কোনো উপায় নেই এবং তিনি তার আলোচনাকারী দলকে সে অনুযায়ী নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন।
গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলে হামলা করে ১২শ’র বেশি মানুষকে হত্যা করে। জিম্মি করে নিয়ে যায় ২৪২ জন কে। ওই দিন থেকেই গাজায় তীব্র হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় গাজায় প্রায় ১৯ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গত মাসে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির সময় হামাস শতাধিক জিম্মিকে মুক্তি দেয়। বিনিময়ে ইসরায়েল তাদের কারাগারে বন্দি দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেয়। হামাসের হাতে এখনো প্রায় ১৪০ জন জিম্মি রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি শেষ গাজায় ইসরায়েলের হামলা আরো তীব্র হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার গাজার উত্তরাঞ্চলে শেজাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় গুলিতে তিন জিম্মি নিহত হয়। ইসরায়েলি বাহিনী ‘ভুল করে’ ওই তিন জিম্মিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
ভুল করে তিন জিম্মি হত্যার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। জিম্মিদের স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা হামাসের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তেল আবিবে জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারের ফোরাম আয়োজিত এক কর্মসূচিতে জিম্মি হেইম পেরির মেয়ে নোয়াম পেরি বলেন, ‘আমরা বার বার মৃত অবস্থায় জিম্মিদের পাচ্ছি’।
এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানা গেছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নেয়া কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানির সঙ্গে শুক্রবার রাতে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্যই ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং নতুন করে জিম্মি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করা। ইউরোপে ওই বৈঠক হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহুকে ওই বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, “কাতারের বিষয়ে আমাদের অনেক অসন্তোষ রয়েছে।
“তবে এই মুহূর্তে আমরা আমাদের সব জিম্মিকে মুক্ত করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।”
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এক বিবৃতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
বলা হয়, “মানবিক বিরতির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একটি সমন্বিত ও টেকসই চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের প্রত্যাশা করছে কাতার। আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের রক্তপাত বন্ধ করতে হবে।”
যদিও হামাস শনিবার বলেছে, গাজার বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা বন্দি বিনিময় নিয়ে আর কোনো সমঝোতায় যাবে না।
আরও পড়ুন:
পুরানো খবর:
‘ভুল করে’ ৩ জিম্মিকে হত্যা ইসরায়েলি বাহিনীর