Published : 28 Jan 2026, 11:44 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি চুক্তি করার “সময় ফুরিয়ে আসছে।”
ইরান আলোচনার টেবিলে বসে চুক্তি না করলে দেশটিতে পরবর্তী হামলা ‘আরও ভয়াবহ’ হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র নয়’ সংক্রান্ত একটি ষুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি করবে, যা সব পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক হবে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, প্রতিটি মুহূর্ত এখন মূল্যবান!”
ট্রাম্প গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামক বিমান হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পরবর্তী হামলা হবে তার চেয়েও ভয়াবহ! আবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর নেতৃত্বে একটি বিশাল ‘আর্মাডা’নৌ-বহর ইতিমধ্যে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
গত সপ্তাহে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে রওনা হওয়া এই বহরটি ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান বলেছে, ভয়াবহ কোনও হামলা হলে তারা এর নজিরবিহীন পাল্টা জবাব দেবে।
ট্রাম্পর বিবৃতি উদ্ধৃত করে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন এক্স- এ এক পোস্টে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র আগেও আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে বোকার মতো ভুল করে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ৭ হাজার মার্কিন সেনার জীবন খুইয়েছে।
“ইরান পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি, কিন্তু যদি চাপ সৃষ্টি করা হয়, তবে ইরান এমনভাবে আত্মরক্ষা করবে এবং পাল্টা জবাব দেবে যেমনটি আগে কখনও দেখা যায়নি!”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি এবং আলোচনার কোনও অনুরোধও জানাননি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, হুমকির মুখে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ইরানে অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে কর্তৃপক্ষের কঠোর দমনের প্রতিবাদে ট্রাম্প বারবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর দাবি অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।
বুধবার ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছেন তাতে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিতেই জোর দিয়েছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির ভাষ্য, “যুক্তরাষ্ট্র যদি চায় আলোচনা হোক, তাহলে তাদেরকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত দাবিদাওয়া তোলা এবং অযৌক্তিক বিষয়ের অবতারণা থেকে বিরত থাকতে হবে।”