Published : 05 Jul 2026, 03:21 PM
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছে রাজধানী তেহরানে। তাদের মধ্যে আলি খামেনির তিন পুত্র সন্তানও উপস্থিত ছিলেন।
রোববারের জানাজায় তাদের পরিবারের আরও চার সদস্য উপস্থিত থাকলেও খামেনির পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়া তার অপর পুত্র মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি, জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে খামেনির ছেলে হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ মোস্তফা, সৈয়দ মাসুদ ও সৈয়দ মেয়সাম খামেনিকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লার বিরাট উঠানে কফিনের সামনে জানাজায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ভাইয়েরাও এ সময় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও জানাজায় অংশ নেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতার দাফন উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ও মিছিলে আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকের পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোতেও তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।

শুক্রবার ইরানি নেতা ও সফররত বিদেশি কর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য খামেনির কফিন একদিন ঘরের ভেতরে রাখার পর শনিবার সর্বসাধারণের জন্য বাইরে রাখা হয়। কাঁচ দিয়ে ঘিরে রাখা খামেনির কফিনের পাশে তার মেয়ে সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনি, জামাতা মেসবাহ-উল-হুদা বাকেরি, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) জাহরা হাদ্দাদ আদেল ও ১৪ মাস বয়সি নাতনি (বুশরাকন্যা) জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির কফিন রাখা হয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বোমা হামলায় খামেনি ও পরিবারের এসব সদস্য নিহত হন। ওই একই হামলায় বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আহত হয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে আর কখনো মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি আর তার কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্সকে তার নিজ চক্রের ঘনিষ্ঠনজনরা জানিয়েছেন, ওই হামলায় মোজতবা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন, তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে আর তার এক পা বা দুই পা-ই উল্লেখযোগ্য জখম হয়েছে।
রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাতের সময় মাসুদ খামেনিকে কাঁদতে ও একটি কেফিয়া দিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে।
মুসাল্লায় জড়ো হওয়া লাখ লাখ ইরানির অনেকেই রাতেই সেখানে চলে এসেছিলেন। তাদের অনেককে কাঁদতে ও বুক চাপড়াতে দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ঘিরে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: