১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

খামেনির জানাজা ঘিরে তেহরান জনসমুদ্র

লাখ লাখ শোকার্ত ও অশ্রুসিক্ত অনুরাগীর উপস্থিতিতে তিন ধাপে তিনটি জানাজা হয়।

খামেনির জানাজা ঘিরে তেহরান জনসমুদ্র
তেহরানে খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রোববার সকালে তিনটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 06:51 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছে তেহরানে।

রোববার ভোর থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লায় জড়ো হয় মানুষ। সেখানে খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য তিনটি জানাজা হয়। 

খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রোববার তিনটি জানাজা হয়। ছবি: রয়টার্স

খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রোববার তিনটি জানাজা হয়

জানাজায় ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ শেখ জাফর সুবহানি। ছবি: পার্সটুডে

জানাজায় ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ শেখ জাফর সুবহানি

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ লিখেছে, জায়গা সংকুলান না হওয়ায় জানাজার কয়েক ঘণ্টা আগেই মসজিদ কমপ্লেক্সটির সবকটি ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মুসাল্লা ঘিরে যেসব সড়ক ও পথ রয়েছে, সেসবও কানায় কানায় ভরে যায়। শোক করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতার জানাজার নামাজ পড়তে ইরানিরা এদিন তেহরানে ভিড় করেন।

দেশটির সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে লিখেছে, লাখ লাখ শোকার্ত ও অশ্রুসিক্ত অনুরাগীর উপস্থিতিতে তিন ধাপে তিনটি জানাজা হয়। নামাজ শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা)। 

প্রথম ধাপে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। এরপর তার মেয়ে সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনি, জামাতা মেসবাহ-উল-হুদা বাকেরি, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজা হয়।

জানাজার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইমাম খোমেনি মুসাল্লা ভরে যায় শোকার্ত মানুষে। ছবি: রয়টার্স

জানাজার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইমাম খোমেনি মুসাল্লা ভরে যায় শোকার্ত মানুষে

সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। ছবি: রয়টার্স

সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত

সবশেষ ধাপে খামেনির ১৪ মাস বয়সি নাতনি (বুশরাকন্যা) জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জানাজা হয়।

জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন আয়াতুল্লাহ শেখ জাফর সুবহানি।

তাসনিম নিউজ লিখেছে, খামেনির ছেলে হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ মোস্তফা, সৈয়দ মাসুদ ও সৈয়দ মেয়সাম খামেনি এবং প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার ভাইয়েরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বিশাল ছবি ঝুলছে। ছবি: রয়টার্স

ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বিশাল

তবে খামেনির আরেক ছেলে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা জানাজায় ছিলেন কি না সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম। 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সময় শনিবার সকালে মুসাল্লায় খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে খামেনির কফিন আনা হয় ইরানের পতাকা জড়িয়ে; তার কালো পাগড়ি রাখা হয় কফিনের উপরে। 

ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিন ধরে এই শোকানুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে সোমবার তেহরানে হবে প্রধান শোকযাত্রা। এ সময় খামেনির কফিনের পাশাপাশি তার স্বজনদের মরদেহ বহন করা হবে।

সর্বোচ্চ নেতার জানাজার দিন মুসাল্লা ঘিরে যেসব সড়ক ও পথ রয়েছে, সেসবও কানায় কানায় ভরে যায়। ছবি: রয়টার্স

সর্বোচ্চ নেতার জানাজার দিন মুসাল্লা ঘিরে যেসব সড়ক ও পথ রয়েছে, সেসবও কানায় কানায় ভরে যায়

শোকযাত্রার পর প্রয়াত নেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র ও ধর্মীয় শিক্ষানগরী কোমে, যেখানে মঙ্গলবার জানাজা ও শোক অনুষ্ঠান হবে।

এরপর বুধবার খামেনির কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। সেখানকার নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজা হবে। ইরানের সমমনা ও মিত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন সেখানে।

বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদ শহরে আরেকটি শোভাযাত্রার পর হযরত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে।

মার্চে এ শেষকৃত্যের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলতে থাকায় তা স্থগিত করা হয়।