Published : 05 Jul 2026, 06:57 PM
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন সার্ভিস ফি আরোপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান। তবে ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্রগুলো এই ফি-এর ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে বলে জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন এই ফি আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও শনিবার চীনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এই ঘোষণা দেন।
যুদ্ধ অবসানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ৬০ দিনের জন্য কোনও ফি ছাড়াই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে ওই সময়সীমা পার হওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড পিস ফোরাম’-এ ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদালরেজা রহমানি ফাজলি জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ‘নতুন ব্যবস্থা’ নিয়ে তার দেশ ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করছে।
অনূদিত বক্তব্যে ফাজলি বলেন, “হরমুজ প্রণালি যেহেতু আমাদের জলসীমার অংশ, তাই আমরা অবশ্যই এর সেবা ফি আদায় করব।”
তবে এই ফি কোনও প্রথাগত ‘টোল’ বা জোরপূর্বক কর নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “নতুন এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নৌযানগুলোর ওপর নজরদারি চালানো এবং বিপুলসংখ্যক জাহাজের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা করা।”
কঠিন সময়ে বন্ধুদের পাশে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “কঠিন সময়ে যারা আমাদের বন্ধু ছিল এবং বিশেষভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, অবশ্যই তাদের জন্য আমরা বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রাখব।”
সাধারণত বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
তবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের সময় ইরান এই পথটি প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল।
যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সইয়ের পর ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে।