Published : 06 Jul 2026, 02:23 PM
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় আসমা আক্তার নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (বিশেষ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল) বিচারক ফারজানা আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সেলিম শাহী জানান।
মৃত আসমা আক্তার চাটখিলের বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মো. শাহজাহানের মেয়ে। দণ্ডিত ২৬ বছর বয়সী শাহাদাত একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে।
রায় ঘোষার সময় শাহাদাত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশপাশি তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক।
রায় ঘোষণার আগে সকালে শাহাদাত হোসেনকে জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে
আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় নিহত শিশু আসমা আক্তারের বাবা ও মামলার বাদী শাহজাহানসহ পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে তারা দ্রুত তা কার্যকরের দাবি জানান।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সী আসমা আক্তার। ঘটনার আটদিন পর একই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে আদালেতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শাহাদাত জানান, ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
পিপি সেলিম শাহী বলেন, “মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে খুশি এবং এর মধ্যদিয়ে আবারও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হল।”
শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সে সময় চাটখিলজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।