শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম চালু না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মন্ত্রী বলেছেন, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রসূতিদের ‘অপ্রয়োজনীয়’ সিজারিয়ান অপারেশন বা সি সেকশনের প্রবণতা কমিয়ে আনতে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে আগামী শনিবারের মধ্যে লেবার রুম (স্বাভাবিক প্রসবকক্ষ) চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সেই ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকালে রাজধানীতে মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ''আগামী শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশের সকল ক্লিনিবে লেবার রুম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা করবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দেব, সেই ক্লিনিক বন্ধ করে দেব।''
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।
মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মিডওয়াইফদের ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “প্রসূতিসেবায় তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো গেলে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
গত এক যুগে সি-সেকশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের নতুন প্রকাশিত মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এই হার যেখানে ৩৬ শতাংশ ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
অতিরিক্ত সি-সেকশনের ফলে মা ও নবজাতকের বিভিন্ন জটিলতা, পরবর্তী গর্ভধারণে ঝুঁকি বৃদ্ধি ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও বাড়ছে।
