Published : 16 Jun 2026, 02:04 PM
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াইয়ের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে কিন্তু পুরোপুরি থামেনি।
সোমবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হামলার শিকার হয়েছে লেবানন। লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে গিয়ে ইসরায়েল দেশটির প্রায় ৩৮০০ মানুষকে হত্যা করেছে আর আরও প্রায় ১২ লাখ নাগরিককে বাস্তুচ্যুত করেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত হতে শুরু করে। এর ধারবাহিকতায় ইরানের সমর্থনে ২ মার্চ ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করে হিজবুল্লাহ। এতে যুদ্ধ লেবাননেও বিস্তার লাভ করে, ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালানো শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তাতে লেবাননে যুদ্ধবিরতি তেহরানের অন্যতম শর্ত ছিল। এই চুক্তির আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকরা পাকিস্তান জানিয়েছে, এই চুক্তিতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঘোষণার পর দক্ষিণ লেবাননে অপেক্ষাকৃত শান্ত হয়ে এসেছে, তবে তিন মাসের এই যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দখল করে নেওয়ার পর সেখানে অবস্থান করতে থাকায় এখানে ওখানে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা অব্যাহত আছে।
লেবাননি ও বিদেশি নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, সোমবার দক্ষিণ লেবাননের কফর তিবনিত শহরে ইসরায়েলি ড্রোন এক গাড়িতে হামলা চালিয়ে এর চালককে হত্যা করে।
আর হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক যান লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ওই যানগুলো লেবাননের আরও গভীরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর এটি ইসরায়েলি লক্ষ্যে হিজবুল্লাহর প্রথম হামলা।
হিজবুল্লাহ আরও জানায়, তারা দক্ষিণ লেবানন দখল করে থাকা ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো রকেট ছুড়েছে ও মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করেছে।
পরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনারা তৎপরতা চালানোর সময় তাদের লক্ষ্য করে রকেট ছুড়েছিল হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা, তবে সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও মর্টারের গোলা ছোড়া হলেও তাতে কোনো ইসরায়েলি সেনা হতাহত হয়নি বলে দাবি করেছে তারা।
রয়টার্সের সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সোমবার একটি ইসরায়েলি ড্রোন বৈরুত ও এর আশপাশের আকাশে দিনভর চক্কর দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি ঘোষণার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের বাহিনী রেখে দেবে আর হিজবুল্লাহর হামলার বিরুদ্ধে ‘পদক্ষেপ গ্রহণের স্বাধীনতা’ বজায় রাখবে। ইরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার চাইলেও তারা তা মানবে না।
আরও পড়ুন:
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে সম্মত হওয়ায় সংঘাতের পথে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু