Published : 19 Jun 2026, 06:06 PM
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে চার সেনা নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
আল জাজিরা লিখেছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখা ইসরায়েলের চার সেনার মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির গোটা লেবানন জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করার হুমকি দিয়েছেন।
যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী নিহত চার সেনার মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তিনি একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেনেন্ট দোর গেদালিয়া বেন সিমশন।
এই চার সেনার মৃত্যুর ঘটনায় এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী বেন গভির বলেছেন, “আমেরিকানদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরায়েলের উচিত সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দেওয়া যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার অধিকার আমরা ত্যাগ করতে পারি না। গোটা লেবাননকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) বলেছি, ইসরায়েলি এক মায়ের প্রতি ফোঁটা অশ্রুর জন্য, লেবাননের হাজার মাকে কাঁদতে হবে।”
বেন গভির বলেন, “ওই অঞ্চল সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করতে হবে, নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে, সন্ত্রাসকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।”
এদিকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো বলেছেন, লেবাননে হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
আল জাজিরা লিখেছে, নোয়েল ব্যারো ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্সইনফোকে বলেছেন যে লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন জোগাতে ফ্রান্স একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য এখনো কাজ করছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিটি এমন এক সময়ে এল, যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে তারা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এবং দক্ষিণ লেবানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে দেশটির ওপর ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বুধবার সই হওয়া অর্ন্তর্বতী চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টেই যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি লেবাননের আঞ্চলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্যও সব পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের একটি অংশ হিসেবে ২ মার্চ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাকে দমন করার জন্য ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে আক্রমণ শুরু করে। গত মাসে এ দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হামলা থামেনি।
এই দফায়ও যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। যদিও লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে গভীর দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।
লেবাননে লাগাতার ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বৈরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা নিয়ে ট্রাম্প চরম বিরক্ত প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, এই হামলার কারণে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া প্রায় ভেস্তে যাচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তেহরান দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার দাবি করেছিল। কিন্তু নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ট্রাম্পের এই চুক্তিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য অপর্যাপ্ত মনে করছেন নেতানিয়াহু। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েল নিজেদের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখছে।
আগের খবর: