১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ৮ বার ভ্রমণ করেছিলেন ট্রাম্প

আগে এপস্টেইনের উড়োজাহাজে ট্রাম্পের ভ্রমণের যে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল তার চেয়েও  অনেক বেশিবার তার এমন ভ্রমণের তথ্য বেরিয়ে এসেছে নতুন প্রকাশিত নথিতে।

এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ৮ বার ভ্রমণ করেছিলেন ট্রাম্প
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Dec 2025, 11:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:23 PM

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ১৯৯০ এর দশকে অন্তত ৮ বার ভ্রমণ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

অর্থাৎ, আগে এপস্টেইনের উড়োজাহাজে ট্রাম্পের ভ্রমণের যে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল তার চেয়েও অনেক বেশিবার তিনি এমন ভ্রমণ করেছেন।

তৃতীয় দফায় মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি থেকে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য।

২০২০ সালের ৭ জানুয়ারিতে নিউ ইয়র্কের কৌঁসুলির এক ইমেইলে লেখা হয়েছে, ফ্লাইট রেকর্ড থেকে ট্রাম্পের ভ্রমণের ওই তথ্য পাওয়া গেছে।

ট্রাম্পের ৮ বারের ফ্লাইটের মধ্যে অন্তত চারটি ফ্লাইটে তার সঙ্গে ছিলেন এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি কিশোরীদেরকে যৌনকাজে নিয়োগ ও পাচারের উদ্দেশে এপস্টেইনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

ট্রাম্প ২০২৪ সালে স্যোশাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লিখেছিলেন, তিনি কখনও এপস্টেইনের উড়োজাহাজে চড়েননি এবং তার পিডো দ্বীপেও যাননি।

ট্রাম্পের ফ্লাইট রেকর্ড প্রকাশ করা কৌসুলির ইমেইলে অবশ্য ট্রাম্প কোনও অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়নি। ওদিকে, হোয়াইট হাউজ এই ইমেইলের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।

প্রকাশিত নথিতে বলা হয়, “একটি ফ্লাইটে তিন যাত্রী ছিলেন। তারা হচ্ছেন, ট্রাম্প, এপস্টেইন এবং ২০ বছর বয়সী এক নারী। তার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। বাকি দুটো ফ্লাইটে দুইজন যাত্রী ছিলেন নারী, যারা ছিলেন সম্ভবত ম্যাক্সওয়েলের মামলার সাক্ষী।”

মার্কিন বিচার বিভাগ এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, কিছু নথিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসত্য এবং সংবেদনশীল দাবি করা হয়েছে এবং এই নথিগুলো ২০২০ সালে নির্বাচনের আগে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই কে দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্পষ্ট করে বলতে গেলে, দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। আর এগুলোর মধ্যে যদি কোনও সত্যতা থেকেও থাকে তাহলেও সেগুলো ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকবে।

তারপরও আইনি প্রতিশ্রুতি এবং স্বচ্ছতার দিকটি মাথায় রেখে বিচারবিভাগ নথিগুলো প্রকাশ করছে। সর্বশেষ এপস্টেইন ফাইলস থেকে প্রকাশ করা হয়েছে ৩০ হাজার পাতার নথি, যার অনেকগুলোই সম্পাদনা করা এবং সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে ডজনখানেক ভিডিও’ও ।

এপস্টিন ফাইলস যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত কেলেঙ্কারির এক গোপন নথি। ট্রাম্পের রিপাবলিকান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব নথি প্রকাশের দাবি উঠেছিল। পরে সেই ফাইলের একটি অংশ প্রকাশ্যে এনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি।

যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ আছে এপস্টিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে- এপস্টিনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত অবৈধ সম্পর্ক। নাবালিকা, এমনকি শিশুদের দিয়েই চালানো হতো যৌন সম্পর্কের কাজ।

এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথিরা সেখানে যেতেন। এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্প ছাড়াও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রভাবশালী সব ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।

এপস্টেইনকে ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় ১৮ বছরের কম বয়সী এক মেয়েকে যৌনকর্মে প্ররোচণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। 

পরে ফের এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌনতার জন্য অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের একটি নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ আনা হয়। বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তিনি কারাগারে মারা যান এবং তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে রায় দেওয়া হয়।