Published : 14 Jun 2026, 10:01 AM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে একটা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সমঝোতা স্মারক রোববারের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন মার্কিন ও পাকিস্তানি নেতারা। কিন্তু তেহরান এই সময় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে আর দেশটির কট্টরপন্থি বিক্ষোভকারীরা এর বিরোধিতা করছে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি পরের দিনই স্বাক্ষরিত হবে, যেটি তার ৮০তম জন্মদিন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির জন্য একটি রূপরেখা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হয়েছে আর রোববারে একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ, এরপর আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু ইরান রোববার স্বাক্ষরের কথা নিশ্চিত করেনি। ট্রাম্পের পোস্টের আগে কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেওয়া উদ্ধৃতিতে তিনি বলেছেন, “আগামীকাল নাও হতে পারে। কিন্তু আসছে দিনগুলোতে হতে পারে।”
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ যেটি ইরান বন্ধ করে রেখেছে, অবিলম্বে ‘সবার জন্য উন্মুক্ত হবে’।
ইরানের কট্টরপন্থিরা দৃশ্যমান হচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণে ইরানের সামরিক শিল্পের ভিত্তি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এর সামরিক বাহিনীর ক্ষতি করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ দেশটির কট্টরপন্থি রেভল্যুশনারি গার্ডের আধিপত্য আগের চেয়ে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রয়টার্স সামাজিম মাধ্যম ও ইরানি সংবাদ ওয়েবসাইটগুলোতে আসা ভিডিওর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চুক্তির বিরোধীরা তেহরানের স্কোয়ারগুলোতে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছে। তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির বিরুদ্ধে শ্লোগান দিচ্ছিল।
‘আরাকচি, তোমার কিছুটা লজ্জিত হওয়া উচিত, আমেরিকাকে যেতে দাও,” বলে শ্লোগান দিচ্ছিলেন তারা।
তবে রয়টার্স এসব ভিডিওর সত্যাসত্য যাচাই করতে পারেনি।
শুক্রবার আরাকচি বলেছেন, যদিও চুক্তিতে এখনও পরিবর্তন আনা সম্ভব, তারপরও খসড়া চুক্তিটি প্রমাণ করে যে তার দেশ এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির কোনো অংশগ্রহণকারী না। শনিবার তারা জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী এদিন ২৮ ঘণ্টায় লেবাননের ইরানি মিত্র শক্তি হিজবুল্লাহর ৭০টিরও বেশি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ উর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, উদীয়মান চুক্তিতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে ওয়াশিংটন তেহরানের ‘মূল শর্তগুলো’ মেনে নিয়েছে। ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, “ইরানিরা এমনি এমনি এতে রাজি হচ্ছে, এমন না।”
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফাইল নিয়ে দশকের পর দশক ধরে কাজ করা ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা স্মারক ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থকে বিপন্ন করবে’ বলে মনে করছেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প বলেছেন 'ইরান চুক্তি হবে রোববার', দ্বিমত তেহরানের