Published : 13 Jun 2026, 10:23 AM
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গভীররাতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
আনন্দবাজার লিখেছে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কলকাতার কালীঘাটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান দলের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চলে যাওয়ার পর অভিষেক বলেন, “তালা ভেঙে ঢুকে পুরো বাড়ি ওরা সার্চ করেছে। সব রেকর্ড রয়েছে।”
পুলিশ বলছে, ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সুমিত রায়কে খুঁজতেই অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সুমিতের মোবাইলের শেষ অবস্থান ছিল অভিষেকের বাড়ি। আর্থিক কেলেঙ্কারির একটি মামলায় সুমিতকে পুলিশ খুঁজছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে গত মাসে। এর মধ্যে তুমুল চাপের মুখে পড়েছে মমতা নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলটিতে তৈরি হয়েছে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী। তারা দাবি করেছেন, তারাই আসল তৃণমূল। আর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তারা পরামর্শদাতা হিসাবে থাকার আর্জি জানিয়েছেন।
আনন্দবাজার লিখেছে, গভীররাতে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অভিষেকের বাড়িতে যান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর তারা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালান। ওই বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এ অভিযান।
রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি বৃহস্পতিবারই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের পর সেদিন সন্ধ্যায় অভিষেক সিআইডি দপ্তর ভবানী ভবনে হাজিরা দিয়েছিলেন। বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে তাকে টানা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। রাত ১২টার পর অভিষেক কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। ওই মামলায় অব্যাহতি চেয়ে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছে, দু’সপ্তাহ পরে মামলাটি ফের শোনা হবে। তত দিন পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে সিআইডি কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে অভিষেককেও তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই এই সই-কাণ্ড বিতর্কের সূত্রপাত্র। তৃণমূলের বেশ কয়েক জন বিধায়ক দাবি করেন, তারা সইই করেননি, কিন্তু চিঠিতে তাদের নাম রয়েছে। কারও কারও নাম আবার লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে। পরে তৃণমূল দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে।
ঘটনাক্রমে তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভেঙে গেছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর মধ্যে শুক্রবার অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে যায় সিআইডি। একটি মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে সল্টলেকে সাইবার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই তদন্তের সূত্রে সিআইডি কালীঘাটে হানা দেয়। অভিষেককে নোটিস ধরাতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তবে অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না। দীর্ঘক্ষণ পর অভিষেক ফিরলে তার হাতে নোটিস ধরায় সিআইডি। আগামী ১৬ জুন তাকে তলব করা হয়েছে। তার আগে সই-কাণ্ডে অভিষেককে তলব করা হয়েছে রোববার। এ ছাড়া ১৫ জুন প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অভিষেককে তলব করেছে ইডি।
শুক্রবার দিনের বেলার টানাপড়েনের পর গভীররাতে অভিষেকের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ।