২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ
Published : 15 Jun 2026, 03:31 PM
পরিস্থিতি এখন কিছুটা শান্ত। চুক্তির দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তাতে চলমান যুদ্ধের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। দেশের এই দুরবস্থা তো আছেই, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে তেরেমি, আমির ঘালেনোয়েইদের হ্যাপার অন্ত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলনের অনুমতি মেলেনি। মেক্সিকোতে ফেলতে হয় তাঁবু। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ম্যাচ খেলতে হবে, ম্যাচ শেষে ফিরেও যেতে হবে!
এর মধ্যে আবার কিছু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিছু প্রবাসী ইরানি বিক্ষোভও দেখাচ্ছে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। এত বাধা-বিপক্তির মধ্যে বিশ্বকাপ নিয়ে তেরেমিদের লক্ষ্য একটাই- দেশে ও দেশের বাইরে থাকা সকল ইরানির মুখে হাসি ফোটানো; তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা।
লস অ্যাঞ্জেলসে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শুরু করবে ইরান। তাদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড। ‘জি’ গ্রুপের অপর দুই দল বেলজিয়াম ও মিশর।
বিশ্বকাপে ইরান কখনই গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি। এবারও তাদের উপর নেই প্রত্যাশার চাপ। তাই বলে, লক্ষ্যহীন নয় দলটি। অনুবাদকের মাধ্যমে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি যেমন জানালেন, তাদের চাওয়াটা।
“আমরা সব ইরানিদের সম্মান করি। বহু বছরের পুরান সভ্যতা নিয়ে গড়া ইরান একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি। আমরা আমাদের সেই ঐক্য বিশ্বকাপে দেখাতে চাই। পৃথিবীর সব প্রান্তে থাকা ইরানির মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরা বিশ্বকাপে এসেছি।”
ইরানিদের মুখে হাসি আরও মিলিয়ে গেছে সাম্প্রতিক সময়ের যুদ্ধে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, কঠোর ধর্মীয় অনুশাসনের মাঝে থাকা ইরানে প্রায়ই বিক্ষোভ দানা বাধে। উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। সরকারের পক্ষ থেকে চলে দমন-পীড়ন। গত জানুয়ারিতেও এমন বিক্ষোভ দমন করতে কঠোর হয়েছিল দেশটির সরকার। তাতে প্রাণহানি হয় অনেক।
এরপর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল মিলে হামলা চালায় ইরানে। দেশটিও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করলে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে থাকা ইরানিরা বিভেদভুলে এক পতাকার নিচে এলেও প্রবাসের অনেকে অবস্থান নেয় সরকারের বিপক্ষে।
ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ইরান-নিউ জিল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে বিক্ষোভের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে, ইরান কোচ আমি ঘালেনোয়েইয়ের বিশ্বাস, কোনো কিছুই তাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না। লস অ্যাঞ্জেলসে অনেক ইরানির বাস, তাদের সমর্থন পাওয়ার আশাবাদও জানালেন তিনি।
“প্রতিকূলতা থেকে সুযোগ তৈরি করতে অভ্যস্ত আমরা। আমাদের জনগণকে আনন্দ এনে দেওয়ার বাইরে কিছু ভাবছি না আমরা এবং এজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।”
“তারা (লস অ্যাঞ্জেলসে থাকা ইরানিরা) যে আমাদের দেখতে এসেছে, আমি তাতেই খুশি এবং আশা করি, তারা আমাদের জন্য প্রার্থনা করবে। আশা করি, তারা আমাদের উৎসাহ যোগাবে এবং ভালো একটা ম্যাচ খেলে আমরা তাদের প্রতিদান দেব।”