Published : 15 Jun 2026, 10:16 AM
মনে হচ্ছিল যেন একুয়েডরের মাঠেই খেলা। গ্যালারি উত্তাল ছিল তাদের সমর্থনে। অপরাজেয় ধারা ধরে রাখার পথেও ছিল তারা। কিন্তু শেষ সময়ে বদলে গেল চিত্র। গ্যালারি ঠাসা দর্শকদের স্তব্ধ করে ৯০তম মিনিটে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ালেন আমাদ জিয়ালো। রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল কোত দি ভোয়া।
বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে ফিলাডেলফিয়ায় ১-০ গোলে জিতে যায় এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে তরুণ দল কোত দি ভোয়া। ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব আসরে খেলতে আসা পশ্চিম আফ্রিকার দলটি পায় স্বপ্নের সূচনা পায়।
নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সিতে বসবাসকারী আনুমানিক ৬ লাখের বেশি একুয়েডরীয় আমেরিকানদের কাছাকাছি ছিল এই ম্যাচ এবং গ্যালারিতে ছিল তাদেরই দাপট। ম্যাচজুড়ে “ভামোস একুয়েটোরিয়ানোস’ গেয়ে চারপাশ মাতিয়ে রেখেছিল। নাচেগানে স্লোগানে মুখর করে রাখেন তারা প্রতিটি মুহূর্ত। কিন্তু শেষের ওই গোলে নেমে আসে যেন পিনপতন নীরবতা।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ ম্যাচ পর পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেল একুয়েডর।

জিয়ালোকে সেরা একাদশে না রাখাই ছিল খানিকটা বিস্ময়কর। যদিও গত জানুয়ারিতে আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স থেকে বিদায়ের পর দলের তিনটি প্রীতি ম্যাচে তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন না, তবে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারানোর পথে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই উইঙ্গারই।
তার না থাকার প্রভাব দলের পারফরম্যান্সেও পড়ে। প্রথমার্ধে ধারহীন ছিল আক্রমণভাগ। ম্যাচের মাঝবিরতির সময় তাকে গা গরম করতে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, দ্রুতই হয়তো তাকে দেখা যাবে তাকে। ৫৬তম মিনিটে তাকে নামানো হয়। তিনি নামার পর পরিষ্কারভাবেই আক্রমণের ধার বাড়ে কিছুটা। ইয়ান ডিওমান্ডে তখন খেলার সুযোগ পান নিজের পছন্দের বাঁ প্রান্তে। আরও কার্যকর হয়ে ওঠেন তিনিই।
ম্যাচজুড়ে পারফরম্যান্সে এই লড়াইয়ের সেরা পারফরমার ছিলেন হয়তো ডিওমান্ডেই। চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দেন লাইপজিগের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার।
তারুণ্যে ঠাসা কোত দি ভোয়া যখন গোলের জন্য মরিয়া, উইলফ্রিড সিঙ্গো ডান দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেন। তার ক্রসটি জিয়ালোর কাছে পৌঁছায় এবং ২৩ বছর বয়সী তারকা বাঁ পায়ের পাশ দিয়ে নিপুণভাবে বলটিকে বাঁ কোণায় জড়িয়ে দেন।
প্রথমার্ধে যদিও দুই দফায় গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিল একুয়েডর। কোত দি ভোয়া ঢিলেঢালা রক্ষণভাগের সুযোগে ২৩তম মিনিটে জন ইয়েবোয়া এবং ৩০তম মিনিটে অ্যালান মিন্ডার জোরাল শট লাগে ক্রস বারে।
কিন্তু বল নিয়ন্ত্রণে রেখে আফ্রিকার দলটিকেই বেশি ভালো খেলতে দেখা যায়, বিশেষ করে একুয়েডরের বাঁ দিককে নাজেহাল করে তোলেন ডিওমান্ডে।
৩৫তম মিনিটে তিনি মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে ফুলব্যাক পিয়েরো হিনকাপিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান এবং পেনাল্টি স্পটের দিকে নিকোলাস পেপের পথে একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন। একটু দেরি করে ফেলা পেপে তার পছন্দের বাঁ পায়ে বল আনার জন্য দ্বিতীয়বার স্পর্শ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তার সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত প্রতিহত হয়।
বিরতির পর কোত দি ভোয়া ভালো শুরু করলেও সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে একুয়েডর। ৬৮তম মিনিটে গন্সালো প্লাতার জোরাল শট ফোফানা আটকে দেন।
এর আগে খেলাটা ছিল যেন ডিওমাণ্ডের নিয়ন্ত্রণে। ৫২তম মিনিটে তার ক্রস থেকে এলি ওয়াহির কোণাকোণি দৌড় শুরু হয়, কিন্তু ওয়াহির প্রথম স্পর্শের শটটি ক্রসবার ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়।
৫৬তম মিনিটে জিয়ালোর মাঠে নামার পর তিনি বাঁ প্রান্তে চলে যান ও কিছুক্ষণ পরেই বক্সে ঢোকার পথে তিনি ইয়েবোয়া, অ্যালান ফ্রাঙ্কো এবং মোইসেস কাইসেদোকে কাটিয়ে উঁচুতে শট নেন।
তখন কাজ না হলেও শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোত দি ভোয়া।