Published : 15 Jun 2026, 11:53 AM
শুরুর দিনগুলোতে যে কোম্পানির সফল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কেবল ১০ শতাংশ সেই স্পেসএক্স ২ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে পা রাখল শেয়ার বাজারে। আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও’র রেকর্ড গড়ে নিজের রকেট কোম্পানিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক।
শুক্রবার নাসডাক-এ শেয়ার লেনদেন শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে টেক্সাসে স্পেসএক্সের নিজস্ব শিল্পনগরীতে এক উৎফুল্ল জনতার সামনে এসে দাঁড়ালেন মাস্ক।
এ সময় তার রকেট নির্মাতা কোম্পানিটি প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য নিয়ে শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা মুহূর্তের মধ্যেই কোম্পানিটিকে আমেরিকার ষষ্ঠ মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
৫৫ বছর বয়সে পা দেওয়ার ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে মাস্ক তার কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, কোম্পানির শুরুর দিনগুলোতে তিনি এর সফল হওয়ার সম্ভাবনা ‘১০ শতাংশেরও কম’ মনে করেছিলেন।
২০০২ সালে স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা করা ও বর্তমানে ২২ হাজার পূর্ণকালীন কর্মীর এই বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার কারিগর মাস্ক বলেছেন, “ওই সময় কেউ যদি আমাকে বলত যে ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, তবে আমি বলতাম, আপনি নিশ্চয়ই মারাত্মক কোনো নেশা করেছেন! কারণ আমার নিজেরই ওই সময় মনে হত কোম্পানিটি ব্যর্থ হতে যাচ্ছে।”
স্পেসএক্সের এই আইপিও ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হওয়ার রেকর্ড গড়েছে। বাজার থেকে কোম্পানিটি প্রায় সাড়ের সাত হাজার কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে, যা আমেরিকার ইতিহাসে এর আগের শীর্ষ আইপিও ২০১৪ সালের আলিবাবার আইপিওর প্রায় তিন গুণ।
এ অভাবনীয় সাফল্যের হাত ধরে মাস্ক এখন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার বা লাখ কোটি পতি। আমেরিকায় বর্তমানে ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের কোম্পানি আছে কেবল ১০টি, যার মধ্যে দুটিই পরিচালনা করেন মাস্ক।
স্পেসএক্সের শুরুর দিনগুলোতে মাস্কের মনে যে অনিশ্চয়তাই থেকে থাকুক না কেন আইপিও’র আগের দিনগুলোতে তার আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চির ধরেনি।
সংক্ষিপ্ত এক প্রচারণায় স্পেসএক্স তাদের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করে ১৩৫ ডলার এবং বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল ‘হয় এই দামেই নিন, না হয় না নিন’। বাজারের চাহিদা যাচাইয়ের জন্য দামের কোনো কম-বেশি রাখা হয়নি, আর সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কোনো প্রকার দরদামও করা হয়নি।
অথচ প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যান্য বড় কোম্পানির তুলনায় স্পেসএক্সের আয় সামান্য এবং গত বছরও কোম্পানিটি ৪৯০ কোটি ডলার লোকসান গুনেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের মোট লোকসানের পরিমাণ ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।
এত কিছুর পরও শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময়ে স্পেসএক্সের মূল্য দাঁড়ায় ২.১ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা গেল বছর তাদের মোট আয়ের চেয়ে ১১২ গুণ।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘গ্রিফ অ্যান্ড কোং’-এর বিনিয়োগ ব্যাংকার লয়েড গ্রিফ বলেছেন, “চুক্তিটি বাজারের স্বাভাবিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়নি। এমনটা সম্পন্ন হয়েছে কেবল একজন মানুষের ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে। আর সেই মানুষটি যদি মাস্ক হন তবে তিনি যা চান, তা-ই হাসিল করে ছাড়েন।”
এদিকে, এ ট্রিলিয়ন ডলার ও ট্রিলিয়নেয়ার শব্দের ঘনঘন উচ্চারণ বিশ্বজুড়ে সম্পদ বৈষম্যের বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন ইরানের যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
ভার্মন্টের সিনেটর ও নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া বার্নি স্যান্ডার্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, মাস্কের এ নতুন অবস্থান ‘বর্তমানে নজিরবিহীন আয় ও সম্পদ বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোরই এক ডাক’।
অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক গভর্নর গ্যাভিন নিউসম মাস্কের সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “আমেরিকানরা যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গ্যাসের দাম মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে তখন ইলন মাস্ক বনে যাচ্ছেন ট্রিলিয়নেয়ার।”
অর্থের হিসাব ছাপিয়ে এখানে যোগ হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগও। তবে এত সব বিতর্কও ওয়াল স্ট্রিটের ফুরফুরে মেজাজে বিন্দুমাত্র পানি ঢালতে পারেনি।
২০২১ সালের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া আইপিও’র দীর্ঘ মন্দা কাটাতে শেয়ার বাজার যেন এমন এক বড়সড় চালুর জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছিল। প্রথম দিনেই শেয়ারের মূল্য ১৯ শতাংশ বেড়ে যায় এবং তা আইপিও মূল্যের চেয়ে বেশ ওপরে ধরে রাখার মাধ্যমে স্পেসএক্স বাজারকে চাঙ্গা করে তুলেছে।
এ সাফল্য চলতি বছরের শেষদিকে বেসরকারি বাজারে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের দুই এআই জায়ান্ট ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য আইপিও আসার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়েছে।
নাসডাকের সাবেক প্রধান নির্বাহী রবার্ট গ্রাইফেল্ড বলেছেন, তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই বাজি ধরতে পারেন’ যে ২০২৬ সালের মধ্যেই ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
এ মাসে কোম্পানি দুটি গোপনীয় পদ্ধতিতে আইপিও’র প্রাথমিক কাগজপত্র জমা দিয়েছে।
ফেইসবুকের আইপিও’কে ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প
শুক্রবার দিনভর স্পেসএক্সের ৫০ কোটিরও বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা ২০১২ সালে ফেইসবুকের শেয়ার বাজারে অভিষেকের রেকর্ডের কাছাকাছি। ওই সময় ফেইসবুকের প্রায় ৫৮ কোটি শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। ফেইসবুকের সেই আইপিও তৎকালীন সময়ে রেকর্ড গড়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছিল।
তবে প্রথম দিনের লেনদেন শেষে ফেইসবুকের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার, যা স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্যের কেবল ২০ ভাগের ১ ভাগ।
এ দুই কোম্পানির মধ্যে বড় মিল হচ্ছে দুটিই তাদের প্রতিষ্ঠাতাদের একক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। তবে এ জায়গাতেও স্পেসএক্স অন্য এক উচ্চতায় রয়েছে। ফেইসবুকের আইপিও’র সময়ে প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের ভোটাধিকারের পরিমাণ ছিল ৫৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, স্পেসএক্সে মাস্কের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণের পরিমাণ ৮২ শতাংশেরও ওপরে। অবশ্য স্পেসএক্সের এ অভাবনীয় আইপিও থেকে আর্থিক সৌভাগ্যের মুখ কেবল মাস্ক একাই দেখেননি।
২০১৫ সালে স্পেসএক্সে প্রায় ৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট। এ আইপিও’র কল্যাণে তাদের সেই শেয়ারের মূল্য এখন ১০ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে।
মাস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধু আন্তোনিও গ্রাসিয়াসের নেতৃত্বাধীন ‘ভ্যালর ইকুইটি পার্টনার্স’-এর শেয়ারের মূল্য এখন ৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি, যার সিংহভাগেরই মালিক তাদের গ্রাহকরা।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি এ আইপিও স্পেসএক্সের বর্তমান ও সাবেক কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জনকে রাতারাতি কোটিপতি বানিয়েছে।
শেয়ার বিক্রির এ বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে ছিল ওয়াল স্ট্রিটের দুই শীর্ষ নাম গোল্ডম্যান স্যাকস ও মরগান স্ট্যানলি। সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ছিল ব্যাংক অফ আমেরিকা, সিটিগ্রুপ, জেপিমরগান চেজসহ একঝাঁক বড় ব্যাংক ও বুটিক ফার্ম।
‘আন্ডাররাইটাররা’ বা শেয়ার বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত শেয়ার পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, যার পেছনে ছিল মজার এক শর্ত।
২০০৯ সালে স্পেসএক্সে বিনিয়োগ করা ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট স্টিভ জুরভেতসন এক্স পোস্টে লিখেছেন, “শর্তটি হচ্ছে ব্যাংকারদের সবাইকে সবুজ রঙের জুতো পরতে হবে।” জুরভেতসন নিজের পোস্টে সবুজ ও সাদা রঙের নাইকি স্নিকার্সের একটি ছবিও জুড়ে দেন, যা কোম্পানির লোগো দিয়ে সাজানো ছিল।

স্টারশিপের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ও সংশয়
স্পেসএক্সের এ আকাশচুম্বী বাজারমূল্য নিয়ে সংশয়বাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন ও এর পেছনের যৌক্তিকতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। কোম্পানির আয়ের সিংহভাগ আসে তাদের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা থেকে এবং এটাই বর্তমানে এই ব্যবসার একমাত্র লাভজনক অংশ।
তবে ব্রডব্যান্ড সেবা যত চমৎকারই হোক না কেন সাধারণত কোনো বিনিয়োগকারী কেবল তার ওপর ভিত্তি করে ইতিহাসে এত উচ্চ মূল্যের শেয়ার কেনেন না।
অন্যদিকে, স্পেসএক্সের মহাকাশ উৎক্ষেপণ বিভাগটি বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান করছে এবং তাদের বর্তমান ফ্যালকন রকেটের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে বেশি সাশ্রয়ী ও কার্যকর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কোম্পানিটি এখন স্টারশিপ রকেটের ওপর নির্ভর করছে।
মাস্কের নিজস্ব এআই কোম্পানি এক্সএআই’কে এ বছরের শুরুতে অধিগ্রহণ করেছে স্পেসএক্স, যা বর্তমানে ‘অর্থের গর্ত’। এক্সএআই এখন লোকসান কাটাতে আপাতত অ্যানথ্রপিক ও গুগলের মতো বড় বিভিন্ন কোম্পানির কাছে তাদের বড় তথ্য ধারণসক্ষমতা ভাড়া দেওয়ার দিকে ঝুঁকেছে।
নাসডাকে স্পেসএক্সের অভিষেকের কেবল কয়েক মিনিটের মাথায় আর্থিক গবেষণা কোম্পানি ‘সিএফআরএ’ কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রির রেটিং দেয় এবং এর লক্ষ্যমাত্রার মূল্য নির্ধারণ করে ১১৫ ডলার।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, বাজারমূল্য নিয়ে নিজেদের ‘প্রত্যাশাকে অনেক উঁচুতে বেঁধেছে’ স্পেসএক্স। আর সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে তাদের স্টারশিপের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে, স্টারলিংকের পরিধি বাড়াতে, এআই অবকাঠামো থেকে রিটার্ন বা লাভ বের করে আনতে এবং চূড়ান্তভাবে ধারাবাহিক এক নগদ প্রবাহ তৈরি করতে হবে।
সিএফআরএ-এর বিশ্লেষক কিথ স্নাইডার গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে এক নোটে লিখেছেন, “আমাদের প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলটি এখনও খুব বেশি মাত্রায় স্টারশিপের ওপর নির্ভরশীল। স্টারশিপ রকেটটি স্পেসএক্সের বিভিন্ন উদ্যোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
এর বাইরেও মহাকাশ, যোগাযোগ ও এআই খাত মিলিয়ে স্পেসএক্স তাদের সম্ভাব্য মোট বাজারের আকার দেখিয়েছে প্রায় ২৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এ মোটা অংকের মধ্যে স্পেস ট্যুরিজম (মহাকাশ পর্যটন), গ্রহাণু খনি বা কক্ষপথে পণ্য উৎপাদনের মতো বিস্ময়কর সব পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং মঙ্গলে যাতায়াতের খরচও এর বাইরে রাখা হয়েছে।
মাস্ক স্পেসএক্সের প্রধান মুখ হলেও কোম্পানিটিকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে অন্যতম বড় অবদান রয়েছে এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও শুরুর দিকের অন্যতম কর্মী গুয়েন শটওয়েলের।
আইপিও’র আগে এক সাক্ষাৎকারে শটওয়েলের কাছে সিএনবিসি জানতে চেয়েছিল, তার বস কি কখনো স্পেসএক্স’কে টেসলার সঙ্গেএকীভূত করবেন? কারণ, এ সম্ভাব্য চুক্তিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে, বিশেষ করে মাস্ক স্পেসএক্সের সঙ্গে এক্সএআই ও তারও আগে এক্স-এর সঙ্গে এক্সএআই একীভূত করার পর এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে।
তিনি এ সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেননি। তবে এমনটা যে তার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই তা-ও স্পষ্ট করেছেন। স্পেসএক্সে শটওয়েলের নিজের শেয়ারের মূল্য এখন ২০০ কোটি ডলারের বেশি।
শটওয়েল বলেছেন, “আমাদের ভবিষ্যতে টেসলা ও স্পেসএক্সের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ভবিষ্যতে আমরা সবাই যা করতে চাচ্ছি তার মধ্যে একটি মেলবন্ধন রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমার পুরো মনোযোগ এখানকার কার্যক্রম সচল রাখা, রকেটের উৎপাদন ও উৎক্ষেপণ ধরে রাখা, মানুষ পাঠানো, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানো ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাদের কাছে এখনও ইন্টারনেট পৌঁছায়নি, সেইসব মানুষের কাছে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর।”
এদিকে, শুক্রবারের এ ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বেশ উপভোগ করেছেন মাস্ক। নিজের কোম্পানির আইপিও যখন সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ শিরোনাম দখল করে রেখেছিল তখন তিনি এক্সে সমর্থকদের পাঠানো অভিনন্দন বার্তা, ভিডিও ও ছবিগুলোই রিপোস্ট করছিলেন।
নিজে খুব বেশি কিছু না লিখলেও এক্স-এ এক বিশেষ বার্তায় মাস্ক লিখেছেন, “স্পেসএক্সের এ অসাধারণ মানুষগুলোকে আমি কতটা ভালোবাসি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”