Published : 14 Jun 2026, 11:42 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাসের মাথায় ‘তাসের ঘরের’ মতো ভেঙে পড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ এমপিরা আইনি প্যাঁচ এড়াতে এবার নতুন একটি দলে যোগ দিলেন।
তবে তৃণমূল থেকে লোকসভা নির্বাচনে এমপি হওয়া ওই ২০ জন ত্রিপুরা রাজ্যের এমন একটি দলে যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন, যার অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। খোদ ত্রিপুরার অনেকেই বলেছেন, তারা এমন কোনো দলের নাম কখনো শোনেনি।
আনন্দবাজার লিখেছে, রোববার সন্ধ্যায় দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে ত্রিপুরাভিত্তিক ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই’ নামে একটি দলে যোগ দেওয়ার কথা বলেন তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ এমপি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ত্রিপুরার রাজনীতি সম্পর্কে খোঁজ রাখা কেউই ‘এনসিপিআই’ দলটি সম্পর্কে বিশেষ কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
যদিও ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দলটির নাম ‘এনসিপিএন’। এটি ২০২৩ সালে রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি (আরইউপিপি) নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত হয়।
অস্বীকৃত ‘এনসিপিএন’ সে বছর ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে ধলাই জেলার চৌমানু এবং ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল, পেয়েছিল ৮২২টি ভোট। তবে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা কে বা কারা, তা স্পষ্ট নয়।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে তৃণমূলের এই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের মধ্যে আছেন শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপক অধিকারী (দেব), পার্থ ভৌমিক, মালা রায়, অরুপ চক্রবর্তী।
আনন্দবাজার লিখেছে, নতুন দলে যোগ দিলেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএকেই সমর্থন করবেন তারা। দিল্লিতে বৈঠক শেষে বের হয়ে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ফিরে ‘এনসিপিআই’ এর দলীয় অফিস খুলবেন তারা। তাদের নতুন দলের ঠিকানা পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলা।
সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ এমপিরা আইনি প্যাঁচ এড়াতে যে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, এমন একটি দল যে আছে, রোববার বিকেলের আগে তা কেউই প্রায় জানতেন না।
দলটির খোঁজ নিতে আনন্দবাজার ত্রিপুরার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগও করে। তারাও নাম শুনে বিস্মিত।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সদ্য সাবেক সভাপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, “এই রকম একটা নাম আমি আগে শুনেছিলাম। কিন্তু ধারণা নেই যে ত্রিপুরায় এদের অস্তিত্ব আছে কি না।’’
ত্রিপুরার আরেক বিজেপি নেতা আশিসলাল সিং বলেন, “এমন কোনো পার্টির অস্তিত্ব আমার রাজ্যে আছে কি না, জানি না।’’
ত্রিপুরার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ও সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, এমন কোনো দলের নাম তিনিও জানেন না, শোনেনওনি।
ত্রিপুরায় বর্ষীয়ান সাংবাদিক দীপন্ত মজুমদার বলছেন, “এই নামে কোনো রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ত্রিপুরার মাটিতে এই নামে কোনও রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নেই।”
এদিকে ‘বিদ্রোহী’ এমপিরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করার আগেই তার কাছে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে অভিষেক লেখেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। আইনতও তৃণমূল একটিই।”
তৃণমূলের সংসদীয় দলের মধ্যে কোনও পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি না দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন তিনি।