Published : 15 Jun 2026, 03:27 PM
বছর তিনেক আগে যে রেফারিকে ‘ই’ গ্রেডের বলেছিলেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল, বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচটি পরিচালনা করবেন সেই ক্লেমোঁ চুহপাঁ। তবে এনিয়ে অবশ্য উদ্বেগের কিছু দেখেন না ইংলিশ অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন। তার বিশ্বাস, বিশ্ব মঞ্চে শীর্ষ মানের রেফারিংই দেখা যাবে।
আগামী বুধবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ‘এল’ গ্রুপে তারা আরও লড়বে ঘানা ও পানামার বিপক্ষে।
চুহপাঁর সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতা একদমই ভালো নয় টুখেলের। ২০২৩ সালে যখন বায়ার্ন মিউনিখের কোচ ছিলেন তিনি, তখন ফরাসি এই রেফারির সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান। সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ করায় টুখেলকে দুটি হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন চুহপাঁ।
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ওই ম্যাচে প্রথমার্ধেই পাঁচজনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। বায়ার্নের ডিফেন্ডার দায়োত উপামেকানোকে সরাসরি লাল কার্ডও দেখান তিনি, যা পরে ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করা হয়। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় বায়ার্ন।
তখন ম্যাচ শেষে টুখেল ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেছিলেন, “দুটি বিষয় ম্যাচের মানের সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না; প্রথমত, মাঠের অবস্থা ভালো ছিল না এবং দ্বিতীয়ত, দুর্ভাগ্যবশত রেফারি ছিলেন ‘গ্রেড ই’ মানের।”
“আমি তাকে ১০ এর মধ্যে ১ দেব। সে খুবই জঘন্য ছিল। এই পর্যায়ে এমন রেফারিং অবিশ্বাস্য। সে সব কিছুর জন্যই বাঁশি বাজাচ্ছিল। আর সবকিছু আমাদের বিপক্ষে গেছে।”
চুহপাঁর সঙ্গে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামেরও দ্বন্দ্বের ইতিহাস আছে। ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে বায়ার্নের হ্যারি কেইন যখন পেনাল্টি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখন বেলিংহ্যাম তার মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা করেন। সে সময় রেয়াল মাদ্রিদ তারকাকে পেনাল্টি এরিয়া থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন রেফারি।
ওই ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেছিলেন, “আমি নিশ্চিত, সে (বেলিংহ্যাম) আমার মনোযোগ নষ্ট করার জন্য কিছু একটা বলছিল, তবে ভাগ্য ভালো যে সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। সে কী বলছিল ঠিক জানি না, তবে আমি তাকে অস্পষ্টভাবে কিছু একটা বলতে দেখেছি।”
টুখেল ও বেলিংহ্যামের সঙ্গে চুহপাঁর অতীত ইতিহাস খারাপ হলেও, এনিয়ে মোটেও চিন্তিত নন হেন্ডারসন।
“আমরা বিশ্বকাপে খেলছি, আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, বিশ্বের সেরা রেফারিরাই এখানে এসেছেন। আর রেফারি কে হবেন, তা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।”
“আমাদের শুধু নিজেদের খেলা ও পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমি নিশ্চিত, রেফারিরা একদম শীর্ষ মানের পারফরম্যান্সই দেখাবেন। আর এটা নিয়ে সত্যিই মাথা ঘামানোর কিছু নেই।”
২০২১ সালের ইউরোপা লিগের ফাইনাল এবং ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল পরিচালনা করেন চুহপাঁ। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচটিতেও দায়িত্বে ছিলেন এই রেফারি।