Published : 04 Apr 2025, 12:56 PM
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসএ) পরিচালক টিমোথি হগকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সাবেক-বর্তমান দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
হগ যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার কমান্ডেরও প্রধান ছিলে। বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে এনএসএ-তে তার ডেপুটি ওয়েন্ডি নোবেলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেদনে বলেছে মার্কিন গণমাধ্যমটি।
নোবেলকে পরে গোয়েন্দা বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারির পেন্টাগন কার্যালয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; এনএসএ মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি সংস্থা।
একইদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের তিন কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বরখাস্ত কর্মকর্তারা হলেন- গোয়েন্দা তথ্য সংক্রান্ত পরিচালক ব্রায়ান ওয়ালশ, আইন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক থমাস বুডরি এবং প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডেভিড ফেইথ।
বুধবার কট্টর ডানপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমারের সঙ্গে বৈঠক করার পর ট্রাম্প এ তিনজনকে বরখাস্ত করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। লরা ওই বৈঠকে তার দৃষ্টিতে ট্রাম্পের এজেন্ডার সমর্থক নয় এমন কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্তের দাবি তুলেছিলেন।
হগের মতো এই তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সুস্পষ্ট কারণও জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক হগকে কেন বরখাস্ত করা হলো, আর নোবেলকে কেন নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলো, তার কারণ জানেন না বলে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন সাবেক-বর্তমান দুই কর্মকর্তা।
মার্কিন সাইবার কমান্ডের উপপ্রধান উইলিয়াম হার্টমানকে এনএসএ-র ভারপ্রাপ্ত পরিচালক করা হয়েছে, আর এনএসএ-র নির্বাহী পরিচালক শিলা থমাসকে করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান।
এই রদবদল নিয়ে রয়টার্স পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজের মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি।
হগকে বরখাস্তের নিন্দা জানিয়েছেন সেনেটের ডেমোক্র্যাট ভাইস চেয়ার মার্ক ওয়ার্নার ও প্রতিনিধি পরিষদের পারমানেন্ট সিলেক্ট কমিটি অন ইন্টিলিজেন্সের সদস্য ডেমোক্র্যাট জিম হাইমস।
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নির্দলীয়, অভিজ্ঞ নেতাদের বরখাস্ত করছেন তা অবাক করার মতো, অথচ তিনি একটি বাণিজ্যিক মেসেজিং অ্যাপে গোপন তথ্য ফাঁসের দায়ে এখন পর্যন্ত তার দলের কাউকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারেননি। উল্টোদিকে তিনি ওভাল অফিসে বসে বিতর্কিত এক ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকের কাছ থেকে কর্মীদের কাকে রাখা হবে, কাকে না, সে বিষয়ে নির্দেশনা নিচ্ছেন,” এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন ওয়ার্নার।
নিরাপত্তা পরিষদের তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের প্রসঙ্গে অবগত একটি সূত্র সিবিএসকে জানায়, সিগন্যাল মেসেজিং অ্যাপকাণ্ড ট্রাম্পকে তার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কর্মকর্তাদের দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, আর বুধবার লুমারের হোয়াইট হাউজ সফর ওই কর্মকর্তাদের অপসারণ নিশ্চিত করেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজ বিবিসিকে বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ তার কর্মীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করে না।
বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার মিয়ামি যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প তার কট্টর সমর্থক লুমারের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।
“উনি মাঝে মাঝে কিছু পরামর্শ দেন, কখনো কখনো আমি সেগুলো শুনিও। আমি সবার কথা শুনি, পরে নিজে সিদ্ধান্ত নিই,” বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ প্রসঙ্গে বিবিসি লুমারকে ফোন করলে কট্টর ডানপন্থি এ অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, বুধবার তার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করাটা ‘মোটেও উপযুক্ত হবে না’।
“এটা ছিল গোপন বৈঠক। এটা লজ্জার যে, হোয়াইট হাউজে এখনও কথা বাইরে পাচার করার লোক আছে যারা এই তথ্যও ফাঁস করে দিয়েছে,” বলেছেন তিনি।