Published : 08 Jul 2026, 10:42 AM
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হোসাম হাসান। প্রতিবাদ জানিয়েছেন, প্রতীকী ইঙ্গিত করেছেন। হলুদ কার্ড দেখেছেন। তার কোচিং স্টাফের একজনকে লাল কার্ডও দেখানো হয়েছে। মিশরের কোচ ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ম্যাচ শেষেও। তাদের প্রাপ্য জয়টা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
চমকপ্রদ উত্থান-পতনের ম্যাচে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার খুব কাছে ছিল মিশর। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত তারা ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। কিন্তু পরের সময়টায় ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নেয় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
৭৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে ম্যাচে ফেরার আশা জিইয়ে ওঠে আর্জেন্টিনার। চার মিনিট পর লিওনেল মেসির গোলে ফেরে সমতা। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এন্সো ফের্নান্দেস করেন জয়সূচক গোলটি।
তবে বেশ কয়েকটি ব্যাপার নিয়ে রেফারি ফঁসোয়া লুতেক্সিয়েরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান হাসান। বৈধ দ্বিতীয় গোলের আগেও এক দফায় বল জালে পাঠিয়েছিল মিশর, কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়। যোগ করা সময়ের শেষদিকে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে একটি হার্ড ট্যাকল পর্যালোচনা না করায়ও ক্ষুব্ধ ছিল মিশর।
ম্যাচের পর কোনো রাখঢাক না রেখেই সরাসরি অভিযোগ তোলেন হাসান।
“আমি এই ফলাফলে সন্তুষ্ট নই। এই ম্যাচে যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। এখানে সুন্দর শব্দ ব্যবহার করে, বেছে বেছে কথা বলে, বা ‘দুর্ভাগ্য’ কিংবা এই ধরনের কথা বলে বিষয়টাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করতে চাই না।
আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।”

ফরাসি রেফারি লুতেক্সিয়েরর অতীত ও ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসান।
ভিএআর পর্যালোচনা না করা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে যোগ করা সময়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ানোর এক পর্যায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয় হাসানকে। মিশরের কোচকে তখন রেফারির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিমিয় করতে দেখা যায়।
সেই কথোপকথনের বিষয়বস্তুও ম্যাচ শেষে খোলাসা করেন হাসান।
“আমি শুধু বলছিলাম, ‘এটা অন্যায়।’ আমি বলছিলাম, হয়তো তার মনে কোনো ক্ষতচিহ্ন আছে। হয়তো তার কিছু লুকানোর আছে। যার কিছু লুকানোর থাকে, সে অনেক সময় তা লুকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে লুকাতে ব্যর্থ হয়।”
ক্ষুব্ধ হাসান বলেন, এই বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ তিনি দেখবেন না। রেফারির সুবিধা নিয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছে বলে সরাসরিই মন্তব্য করেন তিনি।
“বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের তুলনায় আমাদের খেলা ভালো ছিল। আমরা সবদিক থেকেই ভালো ছিলাম, কিন্তু মাঠের ভেতরের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং খেলার আগের বাহ্যিক বিষয় দিয়ে খেলার ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে।
মনে হচ্ছে, রেফারির ওপর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার ফলে এই ফলাফলটি এসেছে।”
নাটকীয়তা যখন তুঙ্গে, হাসানের সহকারীকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পাঁচটি হলুদ কার্ড পায় মিশর, আর্জেন্টিনা পায়নি একটিও।
হাসান বললেন, খেলাধুলায় এমন অন্যায্য আচরণ মেনে নেওয়ার মতো নয়।
“সাধারণ জীবন, স্বাভাবিক জীবনে বৈষম্য থাকে, ঠিক আছে। কিন্তু খেলাধুলায় কোনো ন্যায্যতা নেই কেন? এখানে কেন বৈষম্য থাকবে? ফুটবলে কেন বৈষম্য থাকবে?”
শুধু ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ নয়, হাসানের আপত্তি আছে দুপুর ১২টায় ম্যাচ শুরু করা নিয়েও। সেখানেও তিনি অন্য কোনো উদ্দেশ্য দেখতে পাচ্ছেন।
“আমি জোর দিয়ে বলতে পারি যে, যারা এই ম্যাচগুলোর সময়সূচী নির্ধারণ করে, তারা এমন কেউ, যারা ফুটবল খেলে না এবং জীবনে কখনও খেলেনি। এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ একটা ফুটবল ম্যাচ কখনও দুপুরে শুরু হতে পারে না, দুপুর ১২টায় শুরু হতে পারে না।”
দুপুরে আপনি হাঁটতে বের হন, একটু তাজা বাতাস নিতে যান, হয়তো ব্রাঞ্চ করতে যান, কিন্তু আপনি ফুটবল খেলতে যান না। আপনি মাঠে নামেন না। ওই সময়ে খেলতে নামলে ফুটবলাররা খাবে কখন? দুপুরে খেলার জন্য প্রস্তুত হতে তাদের কি সকাল সাড়ে সাতটায় খাবার খেতে হবে? এটা কি অন্য সবাইকে টেক্কা দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে?”
সব মিলিয়ে ম্যাচের ভেতরে-বাইরের অনেক কিছুতে আঙুল তোলার সুযোগ দেখছেন মিশরের কোচ। তার মতে, তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
“মাঠের ভেতরে ও বাইরে অনেক কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সবদিকেই নেতিবাচকতা ছিল প্রবলভাবে। যেভাবে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবই মূল বিষয়।
আমি আমার ছেলেদের নিয়ে গর্বিত। কিন্তু আমাদের যা প্রাপ্য, আমরা পাইনি।”