০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের পাশাপাশি ওষুধ আমদানির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

"মানব পাচার, চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন।"

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2026, 11:39 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি সাশ্রয়ী দামে ওষুধ আমদানির আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ এ আহবান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক হয়েছে। 

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন 'ইউএন-কপস' এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আছে। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির মঙ্গল ও বুধবারের জুলাই সম্মেলন শেষে আগামী রোববার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

ওই বৈঠকে ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সে সময় তিনি বলেন, ভিয়েতনামের সাথে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও বহুমুখী অংশীদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "দুই দেশের মধ্যে 'প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট' স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ফলে দ্রুতই বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক মানের বাংলাদেশি ওষুধ সাশ্রয়ী দামে আমদানির অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের সুবিধা নিয়ে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।

বৈঠকে উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা জটিলতা এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে ভিয়েতনাম সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিল করার অনুরোধ জানান।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, "মানব পাচার, মাদক চোরাচালান ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন।"

বাংলাদেশের তুলে ধরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেয় ভিয়েতনাম। এছাড়া দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে দেশটি।