Published : 18 Jan 2026, 02:47 PM
দাঙ্গাবাজ কয়েদিরা অন্তত ৪৬ জনকে জিম্মি করার পর গুয়াতেমালার নিরাপত্তা বাহিনী তিনটি কারাগারের দখল ফিরে পেতে চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
কারাগারে আরও বেশি সুবিধা পেতে চাওয়া গ্যাং সদস্যরা এ ঘটনায় জড়িত বলেও দাবি তাদের।
শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল পর্যন্ত কারাগার দখলে নিয়ে অনেককে জিম্মি করার এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন গুয়াতেমালার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো আন্তোনিও ভিলেদা।
জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের সিংহভাগই নিরাপত্তারক্ষী, সঙ্গে একজন মনোবিজ্ঞানীও আছেন বলে এক কারা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভিলেদা জানান, বন্দিরা সমন্বিতভাবেই তিন কারাগারে দাঙ্গা বাধায়। তিনি এর পেছনে বারিও ১৮ গ্যাংকে দায় দেন।
গ্যাংটির নেতা ভালো পরিবেশ ও বেশি সুযোগ সুবিধা পেতে অন্য কারাগারে স্থানান্তরিত হতে চেয়েছিলেন, তার জন্যই গ্যাং সদস্যরা দাঙ্গা বাধায় বলে অভিযোগ এ মন্ত্রীর।
কারাগারগুলোতে দাঙ্গা গ্যাং নেতাদের সুবিধা তুলে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপের ‘সরাসরি প্রতিক্রিয়া’, বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে মন্ত্রণালয়।
“কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো চুক্তি করছি না আমি। আমি এই ব্ল্যাকমেইল মেনে নেব না, তাদের কর্মকাণ্ড থামানোর বদলে তাদের সুবিধা পুনর্বহালও করবো না,” বলেছেন ভিলেদা।
তিন কারাগারের মধ্যে মধ্য আমেরিকার দেশটির দক্ষিণে অবস্থিত এসকুইন্তলা শহরের রেনোভেসিওন ১ ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি কারাগারের চারপাশ পুলিশ ও সেনারা ঘিরে রেখেছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের ট্রাকও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কয়েদিদের কারাগারের নিরাপত্তা টাওয়ারের ওপর থেকে এসবের ওপর নজর রাখতে দেখা গেছে। এ কয়েদিদের বেশিরভাগেরই পরনে দেখা গেছে ট্যাঙ্ক টপস ও শর্টস, কেউ কেউ জাম্পস্যুটও পরেছে। তাদের প্রত্যেকের মুখই কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।
মুখ ঢাকা এক কয়েদি কাঁটাতারের পেছন থেকে বলেন, এই কারাগারে তারা নিরাপদ বোধ করছেন না, যে কারণে তারা অন্য কারাগারে স্থানান্তরিত হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
“তারা তাদের নিজেদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তাই দিতে পারছে না, আমাদেরটা দেবে কীভাবে?,” কারা কর্তৃপক্ষকে ইঙ্গিত করে বলেন তিনি।
কারারক্ষীদের জিম্মি করার ঘটনা গুয়াতেমালায় নতুন না হলেও এবারের মতো এত সংখ্যক লোককে জিম্মি আগের ঘটনাগুলোতে দেখা যায়নি, বলছে রয়টার্স।