Published : 24 May 2026, 11:59 PM
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন নিউ ইয়র্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক তুলে ধরা ওয়েবপেজটি নীরবে সরিয়ে নিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (ইডিসি) ওয়েবসাইট থেকে পেজটি সরানো হয়। এই ওয়েবপেজটি নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের আমলে চালু করা হয়েছিল।
এই পেজে নিউ ইয়র্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকার অংশীদারিত্ব, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হত।
এরিক অ্যাডামস নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র থাকাকালে ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন দেখিয়েছিলেন এবং শহরটিকে ইসরায়েলের ব্যবসা ও উদ্ভাবনের হাবে পরিণত করেছিলেন।
ইডিসি ওয়েবসাইটের পেজে গত বছর বলা হয়েছিল, নিউ ইয়র্ক এবং ইসরায়েলের সম্পর্কের সূচনা আমাদের জনগণকে দিয়েই। ২০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি নিউ ইয়র্ককে নিজের বাড়ি বলে।
তাছাড়া, নিউ ইয়র্ক সিটিতে ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের যে কোনো শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইহুদি মানুষের বাস।
সাধারণ মানুষের মেলবন্ধনের পাশাপাশি ইসরায়েল-নিউ ইয়র্ক সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিক রূপও নিয়েছে। পর্যটন, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং বাণিজ্যিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক ও ইসরায়েল যৌথভাবে কাজ করে।
নিউ ইয়র্ক সিটি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (ইডিসি) ওয়েবসাইটের পেজে দু’য়ের মধ্যকার এই সম্পর্কের পাশাপাশি বিনিয়োগের সুযোগ এবং এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যৌথ অর্থনৈতিক কাউন্সিল গঠন ও স্টার্ট-আপ সহায়তা দেওয়ার মতো বিষয়গুলোও তুলে ধরা হত।
আর সেই পেজেই দর্শকরা এখন ‘প্রবেশ নিষেধ’ বার্তা দেখছেন।
এরিক অ্যাডামসের পর ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্ট এবং ইসরায়েলের স্পষ্টভাষী সমালোচক জোহরান মামদানি নিউ ইয়র্কের মেয়র হওয়ার পর থেকেই ক্রমাগত শহরের ইসরায়েল ঘেঁষা নীতি বদলাচ্ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় এলো ওয়েবপেজ সরানোর এই পদক্ষেপ। এর আগে মামদানি জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইসরায়েলের সমর্থনে আগের মেয়রের জারি করা সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছিলেন।
তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছেন এবং এর আগে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে ঢুকলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন।
মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারের সময়ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তিনি মেয়র হলে যেখানে যেখানে সম্ভব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন।
২০২৫ সালের অক্টোবরে মামদানি ব্লুমবার্গ নিউজকে বলেছিলেন, তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি- ইসরায়েল ইকোনোমিক কাউন্সিলের অবসান ঘটাবেন।
এবার তিনি নিউ ইয়র্ক-ইসরায়েল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিষয়ক ওয়েবপেজ সরালেন। মার্চে পেজটি সরানো হয়।
তবে নিউ ইয়র্ক সিটি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (ইডিসি) - এর এক মুখপাত্র বলেছেন, রুটিন ওয়েবসাইট আপডেট কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সমস্ত বিষয় একত্রীকরণের অংশ হিসাবে পেজটি সরানো হয়েছে।
পেজটিতে এখন ইসরায়েল বা ইসরায়েলের কোনও কোম্পানি আর নজরে আসছে না। তার পরিবর্তে দেখা যাচ্ছে- জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা।