Published : 02 Apr 2026, 11:44 AM
ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখন বলছেন, ইউরোপের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বে’ যেতে চায় যুক্তরাজ্য।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার সরকার চলমান সংকটে দেশকে শান্তভাবে এগিয়ে নেবে এবং যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করবে।
কিয়ার স্টারমার বলেন, “বিশ্ব যখন ক্রমাগত অস্থিতিশীল পথে এগোচ্ছে, তখন দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, আমাদের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ইউরোপে আমাদের মিত্রদের সঙ্গে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “ব্রেক্সিট আমাদের অর্থনীতির গভীর ক্ষতি করেছে এবং যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব উপেক্ষা করার মত নয়।”
স্টারমার বলেন, “তাই, আমরা আগামী সপ্তাহগুলোতে ইইউ সহযোগীদের সঙ্গে নতুন সম্মেলনের ঘোষণা দেব।
“এবং আমি আপনাদের বলতে পারি যে, সেই সম্মেলনে যুক্তরাজ্য কেবল গত বছরের সম্মেলনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অনুমোদন করেই থেমে থাকবে না। আমরা আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হতে চাই—আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আরও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা চাই।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি অংশীদারত্ব তিনি চান, যা ‘অভিন্ন মূল্যবোধ, অভিন্ন স্বার্থ এবং অভিন্ন ভবিষ্যৎকে’ স্বীকৃতি দেয়; বিপজ্জনক বিশ্বে একসঙ্গে চলার পথ করে দেয়।
সংবাদমাধ্যম হিল লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরও ইরান যুদ্ধে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রশ্নে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখেন স্টারমার। তেহরানে বিমান হামলার জন্য যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করতে চাইলেও আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের শঙ্কায় তাতে সায় দেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য ও স্পেনের অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ ঝেরেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্যের মত স্পেনও তাদের সমারিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রকে।
ট্রাম্প বলেছেন, স্পেন ‘বাজে’ আচরণ করেছে এবং যুক্তরাজ্যের আচরণেও তিনি খুশি নন।
স্টারমার সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “তিনি উইনস্টন চার্চিল নন।”
কিয়ার স্টারমার অবশ্য পরে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড এবং চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে তাদের সামরিক উপস্থিতিও বৃদ্ধি করেছে।
২০১৬ সালের গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাজ্য, যা ব্রেক্সিট নামে পরিচিতি পায়।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ইকোনোমিক পলিসি রিসার্চ গত বছর ধারণা দেয়, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জিডিপি ৬ থেকে ৮ শতাংশ কমিয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৩ থেকে ৪ শতাংশ বাড়িয়েছে।
স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা লিখেছেন, উচ্চমাত্রার অনিশ্চয়তা, চাহিদা কমে যাওয়া, ব্যবস্থাপনার সময় অন্যদিকে ব্যয় হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার কারণে সম্পদের অদক্ষ বণ্টনের সম্মিলিত ফল হচ্ছে বড় ধরনের এই নেতিবাচক প্রভাবগুলো।