Published : 21 Jul 2026, 04:24 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রেললাইন অবরোধের ১০ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহারের পর মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
এ সময় এক ব্রিফিংয়ে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা মনে করি, আমাদের ভাইয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার বিচার পেয়েছি। আমরা এই মুহূর্ত থেকে ৬ অগাস্ট পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলাম। ৬ অগাস্টের পর আমরা আবারও এ বিষয়ে সবার সামনে বিস্তারিত তুলে ধরব।”
এ সময় অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের কাছে ক্ষমাও চান আম্মার।
এদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে শিক্ষার্থীদের রেললাইন অবরোধের কারণে রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ ছিল।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার সময় ট্রেনের টিটিইর অনৈতিকভাবে ঘুষ নেওয়ার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টিটিই আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।
এ সময় তাকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ফোরকান।
পরে তিনিসহ কয়েকজন বিষয়টি রেলওয়ে স্টেশনে জানালেও কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সকাল থেকে রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রেললাইন অবরোধের পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এ সময় শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান। পরে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে ওই টিটিইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত; উচ্চতর তদন্ত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একটি এবং ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া; এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে প্রাথমিকভাবে তিনটি ট্রেনের স্টপেজ করার সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়া সার্বিক বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে ৬ অগাস্ট বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
সভা শেষে বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, “গতকাল রাতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘটনাটি নিয়ে আমরা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ সবাইকে নিয়ে দীর্ঘ সভা করেছি। সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত চারটি দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
“আমরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। তাদের দাবি অনুযায়ী, গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশ করা ট্রেনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা চাই, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।”
এদিকে দাবি মেনে নেওয়ায় শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ফিরে এসে বিকাল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলনে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীকে যে হেনস্তা করা হয়েছিল আমরা সেটির শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের বাকি যেসব দাবি ছিল সেগুলোও মেনে নেওয়া হয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের আহ্বান করব যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তারা যেন দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।”
আরও পড়ুন:
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর: অবরোধে সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ