টেলিস্কোপটির মূল লক্ষ্য ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের মতো মহাজাগতিক রহস্যগুলো উদঘাটন করা। ছবি: রয়টার্স
Published : 19 Sep 2026, 06:10 PM
নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছানোর আগেই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সবচেয়ে আধুনিক টেলিস্কোপটি নিয়ে সুখবর মিলেছে।
‘‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ নামের মহাকাশ পর্যবেক্ষণাগারটির সম্ভাব্য কর্মসক্ষমতা দীর্ঘায়িত হয়ে ২২ বছর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা আগে ঘোষণা করা আয়ুষ্কালের দ্বিগুণেরও বেশি বলে প্রতিবেদনে লিখৈছে রয়টার্স।
গেল মাসে টেলিস্কোপটির উৎক্ষেপণের আগে নাসা বলেছিল, রোমান টেলিস্কোপটি ৫ বছরের প্রাথমিক এক মিশন ও পরবর্তী সময়ে আরও ৫ বছরের বাড়তি মিশনের জন্য নকশা করেছে তারা।
ওই সময় এর জ্বালানি বাজেট নির্ধারণ হয়েছিল মোট ১০ বছরের জন্য।
তবে, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে নাসা বলেছে, টেলিস্কোপটির কাজের মেয়াদ আরও বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। এর পেছনে রয়েছে নির্ধারিত কক্ষপথের দিকে যাত্রার সময় প্রথম মধ্যপথ সংশোধন এরইমধ্যে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হওয়া, শিগগিরই হতে যাওয়া দ্বিতীয় মধ্যপথ সংশোধন ও কক্ষপথে স্থাপনের প্রত্যাশিত ফলাফল এবং উৎক্ষেপণের আগে অতিরিক্ত জ্বালানি যুক্ত করা।
জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশবিদ্যার বেশ কিছু অমীমাংসিত ও বড় রহস্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে ৩০ আগস্ট ফ্লোরিডার কেপ কানাভেরাল থেকে স্পেসএক্সের শক্তিশালী ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটে চড়ে মহাকাশ পাড়ি দেয় টেলিস্কোপটি।
এ সপ্তাহে নাসার প্রকাশ পাওয়া এক ব্লগ পোস্টে মেরিল্যান্ডে অবস্থিত নাসার ‘গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার’-এর সেন্টার ডিরেক্টর জেমি ডান বলেছেন, “আমাদের অরবিটাল ডাইনামিক্স টিমের পরিকল্পনা, অপারেশন টিমের দুর্দান্ত বাস্তবায়ন ও স্পেসএক্সের নিখুঁত উৎক্ষেপণের ফলে রোমানের কাছে অন্তত ২২ বছর ধরে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে।”
বর্তমানে রোমান টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট ২’ বা ‘এল২’ নামের নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে মহাশূন্যে ভ্রমণ করছে।
নাসার ‘গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার’-এর রোমান প্রপালশন লিড অ্যালিসন রাও বলেছেন, “একটি মহাকাশযানের ভর এর ডিজাইন ও তৈরির পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে আমরা জ্বালানির হিসাব নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করি, যাতে কোনো কমতি না পড়ে।
“আমরা ইন্টিগ্রেশন ও পরীক্ষার পুরো সময় জুড়ে প্রকৃত ভরের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ট্র্যাক করি, যেন আমাদের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে।
“রোমানের ভর আমাদের বাজেটের চেয়ে কম হওয়ায় আমরা ১০ বছরের প্রয়োজনের জন্য যতটুকু জ্বালানি ভরার কথা ছিল সেভাবে না ভরে প্রোপেল্যান্ট ট্যাংকগুলোকে পুরোপুরি পূর্ণ করতে পেরেছি।”
এ ছাড়া, নাসা বলেছে, টেলিস্কোপটির প্রথম কোর্স কারেকশন বা গতিপথ সংশোধন পদক্ষেপে সংস্থার নির্ধারিত বাজেটের ১০ শতাংশেরও কম জ্বালানি খরচ হয়েছে।
টেলিস্কোপটির মূল লক্ষ্য ডার্ক এনার্জি ও ডার্ক ম্যাটারের মতো মহাজাগতিক রহস্যগুলো উদঘাটন করা। পাশাপাশি বড় পরিসরে মহাকর্ষ পরীক্ষা ও সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট অনুসন্ধান করা।
২০২১ সালে উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ও ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপের মতো অন্যান্য কক্ষপথ অবজারভেটরির সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই রোমান তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নাসার তথ্য অনুসারে, রোমান টেলিস্কোপটি আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে নিজের নির্ধারিত ‘এল২’ কক্ষপথে পৌঁছাবে।