২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘দেখা যাবে, কার বুকের পাটা কতটুকু’, লংমার্চ শেষে সরকারের উদ্দেশে শফিকুর

আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 01:12 AM

Updated : 20 Sep 2026, 01:12 AM

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য আবারও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

জামায়াতে ইসলামীর আমির সরকারের উদ্দেশে বলেন, “বিএনপি সরাসরি বলতে পারে না যে, তারা গণভোট মানেন না। তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছেন, সংবিধানে গণভোট নেই। সংবিধানে যদি গণভোট না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচনও নেই, কোনো সরকারও নেই। মানতে হলে সবটাই মানতে হবে, আর না মানলে সব বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।

তিনি বলেন, “দেখা যাবে- কার বুকের পাটা কতটুকু।”

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “২০২৪ সালের গণবিপ্লব সংবিধান মেনে হয়নি। সংবিধানের বাইরে গিয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশ করা হয়েছে। তাই গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করতে হবে।”

শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

১১ দলীয় ঐক্যেজোটের আয়োজনে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়। পথে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে ১১ দল।

রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ও তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগে এই অঞ্চলের একজন মন্ত্রী তিস্তা বাস্তবায়ন নিয়ে আন্দোলন করেছেন। তার কণ্ঠে ছিল ‘বাহে জাগো সবায়’ স্লোগান। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছিলেন, যে নামেই হোক তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হবে।

“কিন্তু সাত মাস হয়ে গেল, কোনো নড়াচড়া নেই। কোন দিক থেকে কোন পানি পড়া খেলেন! কোমরে জোর দেখি না। জনগণকে ধোঁকা দেওয়া ঠিক হবে না।”

দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকটের কথা তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অথচ কৃষকেরা সার, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে পড়ছেন।”

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘নজিরবিহীন দলীয়করণ’ হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, “সারা বাংলাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক। দেশের মানুষের জননিরাপত্তা নেই। শিশুদের নিরাপত্তা নেই, মা-বোনদের নিরাপত্তা নেই।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আর কাউকে স্বৈরাচার হতে দেবে না। যদি কেউ স্বৈরাচার হতে চেষ্টা করে, যা এই সরকার করছে, তাহলে রংপুরের মাটি থেকেই প্রথম বিদ্রোহ, প্রথম বিপ্লবের আহ্বান আসবে।”

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সকাল থেকেই রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বিকালের পর জিলা স্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠের বাইরে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও আশপাশের এলাকায়ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। লংমার্চ ঘিরে রংপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ-তেলের সংকট দূর করা, দলীয়করণ, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি নিয়ে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।