Published : 19 Sep 2026, 06:28 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাচ-গান, লোককাহিনি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ওরাঁও সম্প্রদায়ের উৎসব ‘কারাম পূজা’।
সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভালো ফসলের প্রত্যাশায় দুই দিনব্যাপী এ উৎসব শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুক্তমঞ্চে শুরু হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় কারাম গাছের ডাল বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হয় বলে জানান বাংলাদেশ ওঁরাও কালচারাল ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রণিকান্ত তিকী।
এর আগে উৎসব উপলক্ষে শনিবার সকালে ক্যাম্পাসে র্যালি বের করা হয়। পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। তাদের এই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসেই।
আয়োজকরা জানান, ওরাঁও সম্প্রদায়ের কাছে কারাম গাছ পবিত্রতা ও মঙ্গলের প্রতীক। বংশপরম্পরায় আশ্বিন মাসের শুরুতে এ উৎসব পালন করে আসছেন তারা।
তাদের বিশ্বাস, কারাম পূজার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা ও খরা থেকে মুক্তি, ভালো ফসল এবং পরিবার ও সমাজের মঙ্গল কামনা করা হয়।
উৎসবের রীতি অনুযায়ী, ওরাঁও সম্প্রদায়ের মানুষরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস করেন। পরে নেচে-গেয়ে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়। এরপর ধর্মীয় আচার, নৃত্য, সংগীত ও লোককাহিনি পরিবেশন করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ছবি বীর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমতলের আদিবাসীরা প্রথমবারের মতো এই উৎসব উদযাপন করছি। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সাড়া ও ইতিবাচক পরিবেশ পেয়ে আমরা সত্যি আনন্দিত।”
বাংলাদেশ ওঁরাও কালচারাল ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রণিকান্ত তিকী বলেন, “ওরাঁও সম্প্রদায়ের প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধারণ করাই মূলত এই উৎসবের মূল উপজীব্য। সমতল ভূমির আদিবাসীদের মধ্যে এটি পালনের আগ্রহ ও সুযোগ অনেকটাই বেড়েছে।”
৭২ বছর বয়সী লালু সরদার বলেন, “কারাম পূজা আমাদের সবচেয়ে বড় ও প্রধান উৎসব। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবার ও সম্প্রদায়ের মঙ্গল কামনা করা।”
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম ওরাঁও সম্প্রদায়ের মানুষকে সন্তানকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আপনারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে অনেক পিছিয়ে পড়বেন। তাই আপনারা ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন। নিজেদের কখনো নিচু ভাববেন না। নিজেদেরকে তুলে ধরেন। নিজেদের তুলে ধরার মধ্য দিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করেন।”