১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল ম্যাচ নিয়ে ২ বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, কয়েকজন আহত

“ইতিহাস বিভাগ পেনাল্টিতে জয়ের পর গ্যালারি থেকে আমাদের গোলরক্ষকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 06:37 PM

Updated : 17 Sep 2026, 06:37 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে ইতিহাস বিভাগ ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের মধ্যকার খেলা শেষে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিম ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ওই বিভাগের ফুটবল দলের গোলরক্ষক।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা বিষয়টি দেখছি।”

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় মুখোমুখি হয় ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ। নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলে উভয় দল সমান অবস্থানে থাকলে খেলা ট্রাইবেকারে গড়ায়। ট্রাইবেকারে ইতিহাস বিভাগ জয় পায়।

পরে একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নিলে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দুই বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সানাউল্লাহ রাফসান বলছেন, “পুরো ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়রা ‘গালিগালাজ’ ও ‘আক্রমণাত্মক আচরণ’ করছিল। ম্যাচ জয়ের পর আমরা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করছিলাম। তখন তাদের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক আমাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করে। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়।”

তার ভাষ্য, “একপর্যায়ে তাদের একজনের হাতে থাকা ইটের আঘাতে আমাদের ডিফেন্ডার জিম ভাইয়ের মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।

“আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ইট ছোড়া হয়নি। আমরা ম্যাচটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে চেয়েছিলাম।”

বিষয়টি মাঠের ভেতরেই সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এ শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, “ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউট হয়। তখন গ্যালারি থেকে ‘স্লেজিং’ চলছিল।

“ইতিহাস বিভাগ পেনাল্টিতে জয়ের পর গ্যালারি থেকে আমাদের গোলরক্ষকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। গোলরক্ষক বিষয়টি দেখালে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় তার দিকে তেড়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়।”

তার দাবি, “এ ঘটনায় আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আহত হয়েছেন। গ্যালারি ভেঙে আমাদের দর্শকদের দিকেও অনেকে তেড়ে আসেন। মাঠে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাই আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা টুকটুকি বলেন, “মারামারি শুরু হলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। আমি চাই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা অপরাধী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।

তিনি বলেন, “খেলোয়াড় প্রবেশের ক্ষেত্রে আমি নিজে গেটে তালিকা ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। তালিকার বাইরে কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি।”

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান।