০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: জড়িতদের শাস্তির দাবি গণযোগাযোগ বিভাগের

“জুলাইয়ের পরে এ রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, এ রকম দৃশ্য দেখতে হবে-আমরা এটা আশা করিনি।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 01:56 PM

Updated : 05 Oct 2026, 02:49 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, বহিষ্কার ও সনদ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিভাগের ক্লাস বর্জন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দুপুরে একাডেমিক সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বকুল। সভায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

হামলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বিভাগের অধ্যাপক আল-আল মামুন বলেন, “জুলাইয়ের পরে এ রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, এ রকম দৃশ্য দেখতে হবে-আমরা আশা করিনি।

“এই ঘটনায় দুটি পক্ষ ফেইসবুকে একে অপরকে মারার হুমকি দিয়ে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত দুই দিনে প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে এবং এই সুযোগে সহিংস ঘটনা ঘটেছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের দাবি পরিষ্কার, যারা সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত শাস্তির উপযুক্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

“সাংবাদিকরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় জনগণের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেছে। এই সাংবাদিকরা আমাদের রক্ষাকবচ। আমরা যদি সঠিক সাংবাদিকতার সুযোগ না রাখতে পারি, তাহলে দেশ আবার অন্ধকারে ঢুকবে।”

শিক্ষকতার তিন দশকে সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা কখনও দেখেননি বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মশিহুর রহমান।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তির ব্যবস্থা করুক। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যে শাস্তির সুযোগ রয়েছে, সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

“যাতে একজন শিক্ষার্থী নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে এবং গণমাধ্যমকর্মীরা নির্ভয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।”

সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সব গণমাধ্যম সংস্কার না হয়ে রাতারাতি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হামলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যখন ঢাকায় এসব হামলা হচ্ছে, তখন রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতিরা এই হামলার মদদ দিচ্ছেন। অসাধারণ ব্যাপার! যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংস্কারের কথা বলতে চেয়েছিলাম, তার বদলে আরও ধ্বংস হয়েছে। সবশেষ গতকাল এখানে খেয়াল করলে দেখা যাবে, নির্দিষ্ট করে সাংবাদিকদের মারা হয়েছে।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা যখন রক্তাক্ত, ব্যথায় কাতর, তখন আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়াতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা আজ বিভাগের ক্লাস বর্জন করেছি। দুপুরে একাডেমিক কমিটির সভাও আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।”

এ বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা তন্বি বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সব ধরনের স্পষ্ট ফুটেজ আছে। আজকের মধ্যে প্রশাসন যদি দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তির ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আজকেই পদত্যাগ করা উচিত। যে প্রশাসনের সামনে শিক্ষার্থীদের মারে, সেখানে প্রশাসনের অস্তিত্ব নেই।”

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির অর্থ সম্পাদক দীন ইসলাম, বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন সিদ্দিকা রূপা বক্তব্য দেন।

এর আগে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ প্রায় দশজন আহত হন।

আহত সাংবাদিকরা হলেন-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।