রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: মামলায় আসামির নাম না আসায় অবস্থান কর্মসূচি
এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নাম না দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বাহ! ভিসি চমৎকার, সন্ত্রাসীদের পাহারাদার’, ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ছাত্রদল হামলা করে, প্রশাসন কী করে?’ বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “নতুন করে কোনো স্বৈরাচার এখানে প্রতিষ্ঠিত হবে না, এখানে কোনো ভয়ের সংস্কৃতি চালু হবে না।
“প্রশাসন দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও আমাদের সুষ্ঠু কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি, আইনি ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও দিতে পারেনি। তারা অজ্ঞাতনামা মামলার দিকে হাঁটছে; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, যারা চিহ্নিত, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক শাকিবুল ইসলাম বলেন, “হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নামে মামলা করতে হবে এবং ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।
“ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কাজলা পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও প্রক্টর বলেছেন, ‘পুলিশ পালিয়ে গেছে।’ আমরা এটা মানি না। ক্যাম্পাসে এতজন সহকারী প্রক্টর থাকা সত্ত্বেও কেন তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেন না, তার জবাব দিতে হবে।”
মাস্টার্সের শিক্ষার্থী অশেকা জাইমা খান বলেন, “ভিডিওতে সবকিছু স্পষ্ট থাকার পরও হল প্রশাসন অজ্ঞাত পরিচয়দের নামে মামলা করে আমাদের সামনে একটি মুলা ঝোলানোর চেষ্টা করেছে। আমাদের দাবি, আজকের মধ্যেই জড়িতদের নামে মামলা এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”
রোববার রাতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
পরে সাংবাদিকদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানায়। তবে সোমবার দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মানহানিকর বিভিন্ন পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এর জেরে সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ভেতরে প্রবেশ করে ২১৪ নম্বর কক্ষ তল্লাশি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পরে তারা হল থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন সাংবাদিক তাদের সামনে গিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন। ভিডিও করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে সাংবাদিকদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
হামলার ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আসাদুল হক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কাজী মামুন হায়দার।
ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার
এদিকে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার ও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সহসভাপতি পদমর্যাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত আলাদা বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রনেতা সাজুকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
