রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: মামলা করবে প্রশাসন, তদন্তে ছাত্রদল
রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবারের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস পাওয়ার পর রোববার মধ্যরাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা।
তবে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, ছাত্রত্ব বাতিল ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে অনড় রয়েছেন তারা।
রোববার রাতে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে হামলা করা হয়েছে-তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
“সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় সোমবার হল প্রশাসনের উদ্যোগে মামলা করা হবে। অন্য দাবি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে বাস্তবায়ন করা হবে।”
এদিকে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান, দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু।
প্রথমে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য, হামলায় ছাত্রদলের অন্তত দশজন নেতাকর্মী অংশ নেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম ও ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী রয়েছেন।
হামলার প্রতিবাদে রাতেই জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকেরা।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জিয়া হলের সামনে যান। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরে রাত সোয়া ১টার দিকে কর্মসূচি থেকে সরে আসেন সাংবাদিকেরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তারা।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে কয়েকটি দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সাংবাদিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে- হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা এবং সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা।
এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, তাদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিলের দাবিও রয়েছে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী নন-এমন ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।
ছাত্রদলের তদন্ত কমিটি
সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করে কেন্দ্রীয় সংসদে লিখিত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ’ পাওয়ার পর তা তদন্তে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এ বি এম ইজাজুল কবির রুয়েল ও মনজুরুল আলমকে রাখা হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
