০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা, আহত ১০

রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 11:13 PM

Updated : 04 Oct 2026, 11:19 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান জানান।

আহত সাংবাদিকরা হলেন- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

এছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন।

আহত সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম ও ছাত্রদল কর্মী বিশাল সীমান্তর নেতৃত্বে অন্তত ১০ নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে আক্রমণের উদ্দেশে সেখানে এসেছিলেন। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।

খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে আবার তাদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে যান।

তখন সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে সেখানে থাকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবানকেও মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।

সহকর্মীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তখন দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয়। এতে জাহিদুলের মাথা ফেটে যায়।

এ সময় অন্য সাংবাদিকরা সহকর্মীদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে তাদের পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেইসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত।

আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন।

অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকাল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের ওই অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম তার ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।”

এরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে।