Published : 03 Jul 2026, 08:40 PM
ইরানে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কয়েকদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
শুক্রবার তার মরদেহ রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় প্রাঙ্গণে রাখার মধ্য দিয়ে শুরু হতে চলেছে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা।
খামেনি নিহত হওয়ার চারমাসেরও বেশি সময় পর তাকে সমাহিত করার এই প্রক্রিয়া শুরু হল। আগামী ৯ জুলাই জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। খামেনির দাফন প্রথমে মার্চ মাসে হওয়ার কথা থাকলেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছিল।
ইরান কর্তৃপক্ষ বলেছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি লোক সমাগম হতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গত জুন মাসে যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক একটি সমঝোতা চুক্তি সই করার পর খামেনির এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠান হচ্ছে।
ছয়দিনের এই আনুষ্ঠানিকতা শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬ টা থেকে শুরু হবে তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায়। রোববার বিকাল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
খামেনির কফিনবন্দি মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় একটি উঁচু স্থানে রাখা হবে তিনদিন। তার পাশাপাশি রাখা হবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও।
দর্শনার্থীদের ঢোকা ও বের হওয়ার পথ এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে প্রত্যেকেই ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে বের হতে পারেন।
খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস ছুটি রাখার নির্দেশ দিয়েছে। গাড়ি চলাচলেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। ইরানের আকাশসীমাও শুক্রবার থেকে আংশিক বন্ধ থাকবে এবং সোমবার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে করা হবে আয়োজন। সেখানে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন শিয়াদের এক জ্যেষ্ঠ আলেম।
বুধবার খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের নাজাফে। অন্ত্যেষ্টিযাত্রার পর কারবালায় ইমাম আলির (শিয়া মুসলিমরা যাকে তাদের প্রথম ইমাম হিসেবে মানে) সমাধিস্থলে আনুষ্ঠানিকতা পালন করে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরাকে এই আনুষ্ঠানিকতা করা হচ্ছে ইরাকি বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে অনুরোধের প্রেক্ষিতে। যদিও শিয়া শাসিত মুসলিম বিশ্বে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রভাব এবং অঞ্চলজুড়ে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি আয়োজনের সমন্বয় করতে বাগদাদ ভ্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, এই শেষ বিদায়ের একটি ‘প্রতীকী গুরুত্ব’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের সমাধিস্থল এবং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান ইমাম রেজার সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে, যেখানে প্রতিবছর লাখো মানুষ পরিদর্শনে যায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার এবং মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে আরও ৪০ দিন শোক অনুষ্ঠান চলবে। দাফনের প্রথম বার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণসভা এবং কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনাও রয়েছে।