Published : 31 Mar 2026, 02:12 PM
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের বিশাল ব্যয় মেটাতে আরব দেশগুলোকে অর্থ প্রদানের অনুরোধ জানাতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই যুদ্ধব্যয় প্রসঙ্গে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
সোমবার হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটকে জিজ্ঞেস করা হয়, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো এবারও আরব দেশগুলোর যুদ্ধের খরচ বহন করা উচিত কি না।
জবাবে লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট তাদের বলতে বেশ আগ্রহী হবেন। আমি এ বিষয়ে তার আগে কিছু বলব না, তবে এটি তার একটি পরিকল্পনা এবং এ বিষয়ে আপনারা তার কাছ থেকে আরও বিস্তারিত শুনতে পাবেন।”
১৯৯০ সালে কুয়েতে ইরাকি আগ্রাসন রুখতে কুয়েত ও এর আরব প্রতিবেশীদের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল।
সেই সময় জার্মানি ও জাপানসহ জোটের সদস্য এবং আঞ্চলিক দেশগুলো মার্কিন সম্পৃক্ততার খরচ মেটাতে ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার (বর্তমান মূল্যে ১৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার) সংগ্রহ করেছিল।
তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের মিত্র বা আঞ্চলিক দেশগুলোকে না জানিয়েই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী ভাষ্যকার শন হ্যানিটি বলেছিলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে যুদ্ধের খরচ ইরানকে দিয়েই মেটানোর শর্ত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “এই পুরো সামরিক অভিযানের যাবতীয় খরচ ইরানের তেলের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।”
কিন্তু যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান এবং একে যুদ্ধ বন্ধের অন্যতম শর্ত হিসেবে হাজির করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ১১৩০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর হিসাব মতে, যুদ্ধের ১২তম দিনে এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৫০ কোটি ডলারে। এখন হোয়াইট হাউজ এই সামরিক অভিযান চালিয়ে নিতে এবং গোলাবারুদের মজুত বাড়াতে কংগ্রেসের কাছে আরও অন্তত ২০ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত সামরিক বরাদ্দ চাইছে।
এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম আকাশমুখি হয়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে অন্তত এক ডলার বেশি। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ইরানের হুমকি নির্মূলের দীর্ঘমেয়াদী সুফলের তুলনায় সামান্য বলে ফের দাবি করেছেন লেভিট।
তিনি বলেছেন, “এগুলো স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ এবং সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ওপর ইরান যে হুমকি সৃষ্টি করেছে, তার দীর্ঘমেয়াদী অবসান ঘটানো।”
অপরদিকে ইরানের দাবি, কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই তাদের ওপর প্রথমে হামলা চালানো হয়েছে আর তারা যুক্তরাষ্ট্র বা এই অঞ্চলের জন্য কোনো হুমকি ছিল না।
আরও পড়ুন:
ইরানের ইস্পাহানে ৯০০ কেজির বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র