Published : 30 Apr 2026, 12:02 AM
ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৫০০ কোটি (২৫ বিলিয়ন) ডলার খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই মার্কিন সামরিক ব্যয়ের প্রথম কোনও সরকারি হিসাব।
বুধবার হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে পেন্টাগনের অর্থ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট জানান, এই খরচের সিংহভাগই হয়েছে গোলাবারুদ বা সমরাস্ত্রের পেছনে।
তবে এই হিসাবের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবকাঠামো মেরামত বা পুনর্গঠন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি হার্স্ট।
কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই হিসাব পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমি খুশি যে আপনি প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন। কারণ, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই সংখ্যাটি জানতে চাইছিলাম, কিন্তু কেউ আমাদের তা দেয়নি।”
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে ইরান যুদ্ধের এই বিশাল ব্যয়ের হিসাব সামনে এল।
জনমত জরিপগুলোতে বর্তমানে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারা যুদ্ধের ব্যয়বহুল প্রভাবকে সামনে এনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দলের রিপাবলিকানদের চাপে ফেলার চেষ্টা করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে হু হু করে বাড়ছে পেট্রোল ও গ্যাসলিনের দাম।
এর প্রভাব পড়েছে সারসহ কৃষি পণ্যের ওপরও, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে।
রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন, যা মার্চের তুলনায় ৪ শতাংশ কম।
পেন্টাগন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রেখেছে এবং ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে।
এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েক শ আহত হয়েছেন। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো কাটেনি।