Published : 21 Jan 2026, 09:36 PM
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে অবিলম্বে আলোচনা চান। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে তিনি শক্তি প্রয়োগ করবেন না।
বুধবার দাভোসে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে দেওয়া এই বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমি আরও একবার গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা চাইছি। ঠিক যেমনটি আমরা আমাদের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য ভূখণ্ড অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে করেছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হলেও বুধবার তা প্রশমিত করার চেষ্টা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে চান না।
তিনি বলেন, “অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আমরা হয়ত কিছুই পাব না। আর শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিলে আমাদেরকে স্পষ্টতই ঠেকানো যাবে না। কিন্তু আমি তা করব না। শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন নেই, আমি তা চাই না। আমি সেটি করবও না।”
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে ট্রাম্প ‘বড় ও সুন্দর এক টুকরো বরফ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্পের মতে, লিজ বা চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন ‘পূর্ণ মালিকানা’। ভাষণে তিনি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও ডেনমার্ককে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেটো মিত্রদের রক্ষা করে আসছে, অথচ তার বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুই দেয়নি।
ট্রাম্প দাবি করেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নেটোর জন্য কোনও হুমকি নয়, বরং এটি পুরো সামরিক জোটের নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
নেটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে এ সময় দর্শকদের সারিতে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প তাকে ইঙ্গিত করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই আছে।
সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করলেও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে পিছু হটেননি ট্রাম্প।
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মিত্র দেশগুলো যদি গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরের বিষয়ে নমনীয় না হয়, তবে তাদের কঠিন অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।