Published : 22 Mar 2026, 08:38 PM
ইরানে যুদ্ধ চার সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতদিনেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির জনসম্মুখে না আসা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এবার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নওরুজ (পারস্য নববর্ষ) উদযাপনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং ইসরায়েলের মোসাদসহ বিশ্বজুড়ে অন্যান্য গোয়েন্দাসংস্থাগুলো উৎসুক ছিল মুজতাবা কী করেন তা দেখতে।
মুজতাবা তার বাবা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মতো ঐতিহ্য মেনে নওরুজের ভাষণ দেন কিনা নজর ছিল সেদিকে। কিন্তু মুজতাবার কাছ থেকে কেবল একটি লিখিত বিবৃতি আসার মধ্য দিয়ে দিনটি পার হওয়ায় তার শারিরীক অবস্থা, ভূমিকা এবং তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মুজতাবার এই ছায়াঘেরা অবস্থান বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। মুজতাবার খোঁজ চালিয়ে তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আভাস পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইএ, মোসাদ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে নিউজ সাইট অ্যাক্সিওস। ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, “মুজতাবাই যে আসলে নির্দেশ দিচ্ছেন এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ নেই।”
মুজতাবাকে নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি (মুজতাবা) বেঁচে আছেন ঠিকই, কিন্তু ইরানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তার হতে নেই।
‘দ্য জেরুসালেম পোস্ট পত্রিকায় দুই সূত্র দাবি করেছে, বর্তমানে ইরান পরিচালনার ক্ষমতা আছে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-এর (আইআরজিসি) হাতে। এক সূত্র বলেছে, রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীই হয়ত মুজতাবাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিষয়টি আসলে কি তা শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে তিনি দাবি করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল এবং মার্কিন হানায় নিহত হওয়ার পর গত ৯ মার্চ তার ছেলে মুজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার প্রথম বিবৃতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় ১২ মার্চে। আর ২০ মার্চে আসে নওরুজের লিখিত বার্তা। সেটিও প্রচার হয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে। এতে মুজতাবার শারিরীক অবস্থা এবং তিনি কোথায় আছেন তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন কি বলছে?
ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেরই কর্মকর্তারা বলছেন, মুজতাবা আহত হয়েছেন। তবে বেঁচে আছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তিনি এখনও জড়িত থাকতে পারেন। তবে বাবার তুলনায় মুজতাবার কর্তৃত্ব সীমিত বলেই মনে হয়।
দুই দেশের গোয়েন্দা বাহিনী অপেক্ষা করছিল যে, নওরুজে হয়ত মুজতবা প্রকাশ্যে আসবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তারপরও গোয়েন্দা তথ্য বলছে, মুজতাবা বেঁচে আছেন।
ইরানের কর্মকর্তারা মুজতাবার সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টাও করেছিলেন। তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে তা আর হয়নি বলেও খবর পাওয়া গেছে।
ইরানে দায়িত্বে কে?
কর্মকর্তারা বলছেন, তেহরানে নির্দেশ কে দিচ্ছে সেটি অস্পষ্ট। মুজতাবা নির্দেশ দিচ্ছেন সেরকম কোনও প্রমাণ নেই। আলি লারিজানি মারা যাওয়ার খবর আসার আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন কার্যত নেতা। তিনি মারা যাওয়ার পর নেতৃত্বে শুন্যতা তৈরি হয়, যা এখন বেশিরভাগই রেভল্যুশনারী গার্ড পূরণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের কর্মকর্তারা বলছেন, শীর্ষ ইরানি নেতারা লুকিয়ে লুকিয়ে শাসনকাজ চালাচ্ছেন, নিরাপদ স্থানে থাকছেন এবং ডিজিটাল যোগাযো এড়িয়ে চলছেন।
নওরুজের বার্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে:
মুজতাবার টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে নওরুজের লিখিত বার্তা। এতে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয় ছবি। এই ছবি সাম্প্রতিক সময়ের কিনা তা যাচাই করে দেখার চেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ ইন্সটিটিউটের রাজ জিম্মাত বলেন, মুজতাবা যে কাজ করছেন না এমন কোনও স্পষ্ট প্রমাণও নেই। তার মতে, মুজতাবার প্রকাশ্যে না আসার কারণ হতে পারে, তিনি আহত এবং তার নিরাপত্তায় ঝুঁকি আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাকে হত্যার নিশানা করার হুমকি ইতোমধ্যেই দিয়েছে।
গোপন এক ব্রিফিংয়ে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটফ্লিক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জেমস অ্যাডামস বলেছেন,ইরান মারাত্মক কমান্ড সংকটে ভুগছে। যদিও তাদের শাসন পতনের আসন্ন কোনও লক্ষণ নেই।