Published : 15 Jun 2025, 02:12 AM
দুই দিন ধরে পাল্টাপাল্টি সংঘাতের পর উত্তেজনা আরও বাড়তে শুরু করেছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে। আবার আক্রমণ শুরু করেছে তেল আবিব; এর জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তেহরান।
শনিবার মধ্যরাতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের তেল আবিব ও হাইফা নগরীকে নিশানা করেছে। বেশ কয়েকজন আহতের খবর দিয়েছে বিবিসিসহ সংবাদমাধ্যমগুলো।

এর আগে ইসরায়েলের নতুন হামলার লক্ষ্যবস্তু মধ্যে ইরানের দুটি বড় গ্যাসক্ষেত্র ও একটি তেল ডিপো রয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে শুরু করার মধ্যে নতুন দফায় যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
দেশটির দক্ষিণের শহর বন্দর আব্বাসেও ইসরায়েলি হামলার খবর দিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান মুখপাত্র এফি ডেফ্রিনের বরাতে বিবিসি বলেছে, “এই মুহূর্তে বিমানবাহিনীর পাইলটরা ইরানের বিভিন্ন এলাকায় জোরালো ও ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।”
ইরানে ৪০ ঘণ্টা ধরে চলমান অভিযান বন্ধ না হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, " একের পর এক হামলা চলছে এবং ১৫০ টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করা হয়েছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামলার কেন্দ্রবিন্দু তেহরান।
টেলিভিশনে প্রচার করা ভিডিওতে ডেফ্রিন বলেন, ইসরায়েল পশ্চিম ইরানের একটি ভূগর্ভস্থ স্থানকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যেটি ‘ভূমি থেকে ভূমিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও নিক্ষেপের জন্য ব্যবহার করা হয়।
"এই স্থানে আঘাত করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে যেসব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এটি পরিদর্শন করেছিলেন তাদের হত্যা করা হয়েছে।”
ওই মুখপাত্রের দাবি, “সেখানে রাখা ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ইসরায়েলি নাগরিক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে থাকা পশ্চিমা দেশের বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কা ছিল।”
অপরদিকে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলেছে, দেশটির দক্ষিণ বুশেহর প্রদেশের দুটি প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র এবং একই প্রদেশের আরেকটি গ্যাসক্ষেত্র ফজর জামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিবিসি ভেরিফাই বর্তমানে সেই এলাকার ফুটেজ যাচাই করছে।

এ আক্রমণের জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দ্রুতই ইসরায়েলে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে, যা হবে খুবই ধ্বংসাত্মক। প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং তা যেকোনো সময় শুরু হবে।
এর ঘণ্টা দুয়েক পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে জবাব দেওয়া শুরু করে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক প্রতিযোগীর মধ্যে চরম উত্তেজনা শুরু হয় ইসরায়েল শুক্রবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন পরমাণু স্থাপনা এবং পরমাণু বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালালে।
ইরানও দমে না গিয়ে পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আঞ্চলিক যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে।