Published : 15 May 2026, 12:19 AM
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হয়ে চীন সফর করছেন। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে ট্রাম্পের পাশে দেখা যাচ্ছে তাকে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি এখন আলোচিত হচ্ছে।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রুবিও দুইবার চীনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন। এর আওতায় তার চীনে প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার পরও রুবিও কীভাবে বেইজিংয়ে পদার্পন করলেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরা জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় থাকা রুবিওর বেইজিং সফরের পথ খুঁজে বের করেছে খোদ চীন। এ জন্য চীন সরকার একটি বিশেষ কৌশল নিয়েছে। তাকে নতুন একটি চীনা নাম দিয়ে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেই দেশটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক জটিলতা এড়াতে চীন তাদের নথিতে রুবিওর নামের বানান পরিবর্তন করেছে। রুবিওর নামের প্রথম অক্ষর ‘রু’-এর পরিবর্তে চীনা অক্ষর ‘লু’ ব্যবহার করেছে তারা। সফরের জন্য প্রস্তুত করা বেইজিংয়ের সরকারি নথিপত্রগুলোতে মার্কো রুবিওর নামের বানানটি এরকম ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষিদ্ধ তালিকার ‘রুবিও’ যাতে আইনি বাধা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্যই এই সুকৌশলী পরিবর্তন।
নামের বানানে এই পরিবর্তনের সূচনা অবশ্য হয়েছিল আগেই। গত বছরের জানুয়ারিতে রুবিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে দিয়ে চীন রুবিওর নামের প্রথম অক্ষর ‘রু’-এর পরিবর্তে ‘লু’ ব্যবহার করতে শুরু করেছিল।
এরপর মার্চে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দেয় যে, তারা মার্কো রুবিওর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে ইচ্ছুক, যদি তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফর করতে চান।
২০২০ সালে রুবিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল চীন। রুবিও তখনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হননি। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনেটর। হংকংয়ে চীনের দমনপীড়ন এবং শিনজিয়াংয়ে ইউঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন নিয়ে সমালোচনা করার কারণে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বেইজিং।