১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধের ঘোষণা তেহরানের, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান।

হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধের ঘোষণা তেহরানের, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা
ওমানের মুসান্দাম থেকে দেখা হরমুজ প্রণালী। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jul 2026, 12:56 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আর এর জেরে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।  

গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। এর জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করেছেন। তবে ট্রাম্প আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।   

ইরান অনঅনুমোদিত এক রুট দিয়ে ভ্রমণ করতে থাকা একটি জাহাজ লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে, কিন্তু সেটি জাহাজটিতে আঘাত হেনেছে। এই ঘটনার পর ইরান হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা দেয়। আর এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ার করে।  

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আক্রান্ত জাহাজটিকে এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি বলে শনাক্ত করেছে। এটি সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ। ইরানি গোলাবর্ষণে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও এক বেসামরিক ক্রু সদস্য নিখোঁজ হয়েছে বলে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। 

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স সেন্টার জানিয়েছে, কন্টেইনারবাহী জাহাজটি ওমানের পূর্বদিকের জলপথে থাকার সময় হামলার শিকার হয়। হামলার পর ক্রু সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে লাইফবোটে চড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন হামলার সময় তাদের অনেকগুলো বন্দর শহরে বিস্ফোরণ ঘটেছে।  

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশানি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার এবং ড্রোন রাখার একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস করে দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করায় ব্যস্ত আছে। 

কাতার জানিয়েছে, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করেছে আর দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরাইনে আকাশ হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।   

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখায় বিশ্বের এক পঞ্চমাংংশ তেল-গ্যাসের সরবরাহ স্থগিত হয়ে আছে, এতে জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির কারণ ঘটাচ্ছে আর এ পরিস্থিতি অর্থনীতির গতি ধীর করে দেবে, এমন আশঙ্কা ছড়াচ্ছে। 

আর বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্যাসোলিনের উচ্চ মূল্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে একটি সংবেদনশীল এক সমস্যা।    

ইরান জানিয়েছে, হরমুজের ‘অনুমোদিত রুট’ ধরে বেশ কয়েকটি জাহাজ চলাচল করার চেষ্টা করেছিল আর তারা তাদের গতিপথ সংশোধনের জন্য দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। 

এই প্রণালিটি ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ থাকবে বলে রেভল্যুশনারি গার্ড ঘোষণা করেছে।   

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ইরানে আঘাত হানতে শুরু করে।  

এর প্রায় এক ঘণ্টা আগে ইরান জানিয়েছিল, কন্টেইনার জাহাজের ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারা পশ্চিম এশিয়ায় ‘শত্রুর নতুন নতুন ঘাঁটিতে’ পাল্টা হামলা চালাবে।

সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের আঘাত হানার আদেশটি দিয়েছিলেন। তবে হোয়াইট হাউজ এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে জানানো রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।  

আরও পড়ুন: 

হরমুজ বন্ধ করায় ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের