Published : 12 Jul 2026, 01:35 PM
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এরমধ্যে মেধাবৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী।।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃত্তি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৭৮ হাজার ৮১০টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ৬৫ হাজার ৬০৫ টি আর বেসরকারি বিদ্যালয় ছিল ১৩ হাজার ২০৫টি।
২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া ৬ লাখ ৪৫ হাজার পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন। তাদের মধ্যে সরকারি স্কুলের ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন এবং বেসরকারি স্কুলের ৭৮ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, “প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এ মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ টি ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে মোট ৩২ হাজার ৯৬৫ জনের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন বৃত্তি পায়।
“অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ২৮১ জন; যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ৯ হাজার ৮৬১ জন। বৃত্তিপ্রাপ্ত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ)।”
মহাপরিচালক বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ আয়োজন শুধু মেধা যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রতিযোগিতামূলক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।”
পরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তির ফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এখন আমি বৃত্তির রেজাল্ট ঘোষণা করলাম। সেই সাথে আগামী দিনে বৃত্তি আমরা অলমোস্ট ডাবল করছি। টাকা বাড়ানো হয়েছে। তিনশকে ছয়শ করেছি, সোয়া দুইশকে সাড়ে চারশ করেছি।
“বৃত্তির ফল আপলোড করা শুরু হয়েছে। ডিজি সাহেব জানালেন দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে ফল পাওয়া যাবে।”
বৃত্তি পাওয়া ৩৫ হাজার ৮৯২ জন ছাত্রের মধ্যে মেধাবৃত্তি পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৯৮ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৯৪ জন। আর বৃত্তির পাওয়া ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন ছাত্রীর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৬ হাজার ৫৬৭ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭৮৭ জন।
সবচেয়ে বেশি বৃত্তি পাওয়া জেলা ঢাকা। এ জেলায় ৪ হাজার ৬৮২ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১ হাজার্ ৮৯৭ জন এবং সাধারণ বৃত্তি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮৫ জন। সবচেয়ে কম বৃত্তি পেয়েছেন বান্দরবান জেলায় ১৮৮ জন।
দিনাজপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, এ জেলায় ১৫ হাজার ৩৬৬ পরীক্ষাং অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছেন ৮ হাজার ৮৯৮ জন।
২০২৬ সালের জন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে মোট বৃত্তির সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ছিল ৪৯ হাজার ৫০০। ট্যালেন্টপুলে এককালীন বৃত্তি ছিল ২২৫ টাকা ও মাসিক ৩০০ টাকা। আর সাধারণ বৃত্তিতে এককালীন ছিল ২২৫ টাকা এবং মাসিক ২২৫ টাকা।
“২০২৬ সালের জন্য যে প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে বৃত্তির সংখ্যা একই আছে, তবে বৃত্তির পরিমান বাড়ানো হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে এককালীন ২২৫ এর স্থলে ৪৫০ টাকা করা হয়েছে এবং মাসিক ৩০০ এর স্থলে ৬০০ টাকা
করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে এককালীন ২২৫ টাকাকে ৪৫০ টাকা করার এবং মাসিক ২২৫ টাকাকে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।”