Published : 12 Jul 2026, 01:32 PM
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট রাঙিয়ে জাতীয় দলে আসার নজির আছে অসংখ্য। তবে সেই পথচলায় বেশির ভাগ ক্রিকেটারকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ছাপ খেলে এগোতে হয়। সেখানেই ব্যতিক্রম ভাইটেল লজ। স্বীকৃত ঘরোয়া ক্রিকেট বা পেশাদার ক্রিকেটে কোনো ম্যাচ না খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আনা হলো বাঁহাতি এই রিস্ট স্পিনারকে। সিদ্ধান্তটি যে ভুল ছিল না, ১৯ বছর বয়সী বোলার তা প্রমাণ করলেন প্রথম ম্যাচেই।
অভিষেকেই লজ শিকার করলেন তিন উইকেট, অভিজ্ঞ পেসার আলজারি জোসেফ চারটি। এই দুজনের বোলিংয়ের পর কেসি কার্টি ও শেই হোপের দারুণ ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ৭ উইকেটে জিতল ক্যারিবিয়ানরা। গায়ানায় শনিবার কিউইদের ২৬৭ রান ছাড়িয়ে ম্যাচ জিতে নিল তারা ৭ বল বাকি রেখে।
৫ রানের জন্য পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পাননি কার্টি। ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১১২ বলে করেন তিনি ৯৫ রান। অধিনায়ক হোপ অপরাজিত থাকেন ৯২ বলে ৮৭ রান করে।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউ জিল্যান্ডকে ভালো শুরু এনে দেন হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং। উদ্বোধনী জুটিতে ৮০ রান তোলেন দুজন।
গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নজর কাড়া লজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ওভারেই স্বাদ পা উইকেটের। জুটি ভাঙেন তিনি নিকোলসকে (২৭) ফিরিয়ে। পরে দারুণ এক ডেলিভারিতে বিদায় করে দেন তিনে নামা মার্ক চ্যাপমানকেও (২৭)।
এই দুটির ফাঁকে আরেক ওপেনার ইয়াং ৪৯ রানে ফিরতি ক্যাচ দেন গুডাকেশ মোটিকে।
এরপর টম ল্যাথাম (২৫) ও মাইেকল ব্রেসওয়েলকে (২৯) নিয়ে জুটি গড়েন ড্যারিল মিচেল। কোনো জুটিই অবশ্য খুব বড় হয়নি।

মিচেল টিকে ছিলেন বলে নিউ জিল্যান্ডের বড় স্কোরের আশাও জিইয়ে ছিল। ৪৩ ওভার শেষে রান ছিল ৪ উইকেটে ২৩৪। সেখান থেকে ২৯০-৩০০ রান তো আশা করাই যায়। কিন্তু এই সময়ে মাত্র ৩৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস।
৭৩ বলে ৬৫ রানে আউট হন মিচেল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ায় পঞ্চম ওভারে বিদায় নেন জন ক্যাম্পবেল। দ্বিতীয় উইকেটে আকিম ওগিস ও কার্টি যোগ করেন ৬৪ রান।
ওগিস ৩৮ রানে ফেরার পর কার্টি ও হোপের সেই জুটি। তৃতীয় উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে কার্যত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন দুজন।
কার্টি অবশ্য ৬৪ রানে বেঁচে যান বিতর্ককে সঙ্গী করে। ৬৪ রানে যখন তিনি জেকব ডাফির বলে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন, শটটি খেলার ভঙ্গি এক মুহূর্তের জন্য ধরে রাখার পর, পেছনের দিকে ঘুরতে থাকা তার ব্যাট স্টাম্পের উপরের অংশে আঘাত করে। বড় পর্দায় রিপ্লে দেখে উদযাপন শুরু করেন কিউইরা। তবে টিভি আম্পায়ারের দৃষ্টিতে, উইকেট ফেলে দেওয়ার আগেই কার্টির শটটি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল বলে তাকে নট আউট দেওয়া হয়।
সেই কার্টি আউট হন ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর চেষ্টায়। শেরফেন রাদারফোর্ডকে (১৬ বলে ৩০*) নিয়ে বাকি পথটুকু অনায়াসেই পাড়ি দেন হোপ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৪৯.৫ ওভারে ২৬৭ (নিকোলস ২৭, ইয়াং ৪৯, চ্যাপম্যান ২৭, মিচেল ৬৫, ল্যাথাম ২৫, ব্রেসওয়েল ২৯, স্যান্টনার ২১, স্মিথ ৫, ডাফি ০, ফিশার ১, লেনক্স ০*, পিয়ের ১০-০-৩৯-১, শামার জোসেফ ৮-০-৪৯-০, আলজারি জোসেফ ৮.৫-০-৪১-৪, মোটি ১০-০-৫১-২, লজ ১০-০-৫৪-৩, রাদারফোর্ড ৩-০-২১-০)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৮.৫ ওভারে ২৬৮/৩ (ক্যাম্পবেল ১১, ওগিস ৩৮, কার্টি ৯৫, হোপ ৮৭*, রাদারফের্ড ২২*; ডাফি ৭-০-৫২-১, স্মিথ ৭-০-৩২-১, লেনক্স ১০-০-৫৫-১, ফিশার ৯.৫-০-৫১-০, স্যান্টনার ১০-০-৪২-০, ব্রেসওয়েল ৫-০-৩৩-০)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: কেসি কার্টি।