Published : 12 Jul 2026, 01:28 PM
এবারের বিশ্বকাপে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই কোনো না কোনো ঘটনা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রথম গোলটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নরওয়ে। গোলটির আগে বল স্কাই ক্যামেরার তারে লেগেছে বলে দাবি করেছে তারা। যদিও ফিফা জানিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মায়ামিতে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। আন্দ্রেয়াস শেলদেরিপকের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে একটি করে গোল করে ইংলিশদের আনন্দে ভাসান জুড বেলিংহ্যাম।
বিতর্ক ছড়িয়েছে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বেলিংহ্যামের করা গোলটি নিয়ে। নরওয়ের দাবি ও ভিডিও রিপ্লেতেও দেখা গেছে, তাদের গোলরক্ষক আরিয়ান হশল নিলাদের গোলকিকে বল মাঝমাঠে হাওয়ায় থাকা অবস্থায় হুট করে নিচে পড়ে যায়। সেই বল পেয়ে আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড এবং দুই সতীর্থের পা ঘুরে পাওয়া বল জালে পাঠান বেলিংহ্যাম।
গোলের পর নিলাদ, আর্লিং হলান্ড ও নরওয়ের কোচ স্তলে সুরবাকেন বিষয়টি নিয়ে রেফারির কাছে আপত্তি জানান। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি, সিদ্ধান্তে কোনো বদল আসেনি।
ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটি নিয়ে কথা বলেন সুরবাকেন।
“এটা আমাদের দুর্ভাগ্য ছিল। বলটি শূন্য থেকে আচমকা সোজা নিচে পড়ে যায়, যার মানে এটি তার দিক পরিবর্তন করেছে। আর এই ঘটনা আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে, যা আমাদের জন্য বাজে সময় ছিল। তবে এনিয়ে কিছু করতে পারব না আমরা।”
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বল যদি কোনো তারে লেগে ফিরে আসে, তবে রেফারি খেলা থামিয়ে দেবেন এবং বল কার দখলে থাকবে ঠিক করে দেবেন। কিন্তু বল তারে লাগার কোনো প্রমাণ না পাওয়ার কথা ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিবৃতি দিয়ে জানায় ফিফা।
“নরওয়ের বিপক্ষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলের আগে, বলটি যখন শূন্যে ছিল, তখন ‘কানেক্টেড বল’-এর ভেতরের সেন্সরটি বলের ‘হার্টবিটে’ কোনো স্পাইক দেখায়নি। তাই বলটি ওভারহেড তারে স্পর্শ করেছে এবং বলের গতিপথ পরিবর্তন করেছে- এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো বলের মধ্যে একটি সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে। খুবই হালকা স্পর্শেরও সংকেত পাঠাতে পারে এটি। শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগালের ম্যাচে যার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেদিন শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করতে এই প্রযুক্তি সাহায্য করেছিল। সেন্সরটি শনাক্ত করেছিল যে, বলটি একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে স্পর্শ করেছিল। পরে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ক্রোয়াটরা।
তবে এবার সেন্সর পরীক্ষা করার জন্য খেলা থামানো হয়নি।
এদিন ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ের একটি গোল বাতিল করা হয়। কর্নার কিক থেকে তুরবিয়ন হেইগ্যামের করা সেই গোলের বিল্ড-আপে আর্লিং হলান্ড ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন বলে মনিটর দেখে রায় দেন রেফারি।
উত্তর আমেরিকা আসরের শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। সেমি-ফাইনালে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।