Published : 13 Jul 2026, 03:36 PM
জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও বিদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের পাঠানেরা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রত্যাশিত চাপের কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে এনেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ।
ম্যানিলাভিত্তিক এডিবির এশিয়ার উন্নয়ন প্রতিবেদন (এডিও) জুলাই ২০২৬ এ এশিয়ার ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উন্নয়নশীল দেশগুলো জন্য তাদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হ্রাস করে ২০২৫ এর ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২৬ এর জন্য ৪ দশমিক ৯ শতাংশ করেছে। এটি তাদের এপ্রিলের পূর্বাভাস থেকে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের অর্থনীতি ২০২৬ অর্থবছরে (২০২৬ এর জুনে শেষ হয়েছে) ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শক্তিশালী শিল্প ও পরিষেবা খাতের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে কিছুটা সাফল্যের কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে। তবে জ্বালানির উচ্চ ব্যয় ও প্রবাসী আয়ের ওপর চাপের কারণে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নামানো হয়েছে।”
এর আগে এডিবি তাদের এপ্রিল ২০২৬ এর পূর্বাভাসে চলতি অর্থ বছরের জন্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছিল।
এই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি এপ্রিল ২০২৬ এ করা পূর্ববর্তী অনুমানের তুলনায় ২০২৬ অর্থবছর এবং চলতি অর্থ বছর, উভয়ের জন্য তাদের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসকেও সংশোধন করেছে।
তারা বলেছে, “খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ অর্থ বছরের জন্য পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আর পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অব্যাহত প্রতিকূল প্রভাবের কারণে ২০২৭ অর্থ বছরের জন্যও পূর্বাভাস সংশোধন করে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে।”
এপ্রিলে এডিবি ২০২৬ অর্থ বছরের জন্য ৬ দশমিক ৪ শতাংশ আর ২০২৭ অর্থ বছরের জন্য ৭ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হিসাব করেছিল।
ইতোমধ্যে পাকিস্তান সরকার চলতি বছরের জন্য তাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। অপরদিকে বিশ্ব মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের জন্য পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
এডিবি জ্বালানির উচ্চমূল্যের অব্যাহত আংশিক প্রভাবের জন্য বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার জন্যও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হ্রাস করেছে।