Published : 18 Jun 2026, 09:15 PM
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সইয়ের পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়লের বিপদ কমানোরই বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের ‘সবচেয়ে বড় ঝুঁকি’ পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা দূর করবে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে জি সেভেন সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে বিবিকে (নেতানিয়াহুর ডাক নাম) ফোন করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্য ভাল হল। কারণ, এ চুক্তি ইরানের পারমাণবিক হামলা থেকে ইসরায়লেকে রক্ষা করবে। তিনি বলেন, “দেখুন, ইসরায়েল কী পাচ্ছে তা ভেবে দেখুন। তাদের ওপর কোনও পারমাণবিক বোমা পড়তে যাচ্ছে না।”
ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বলেছেন যে, ইসরায়েল তাদের দাবি করা ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটিই’ পেয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “বিষয়টি খুবই সহজ। আমি বিবিকে (নেতানিয়াহু) বলেছি, বিবি, আপনার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল ইসরায়েলের বুকে তাদের (ইরান) একটি পরমাণু বোমা ফেলা। ইসরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করতে তাদের মাত্র একটি বোমারই প্রয়োজন হত, তাহলে ইসরায়েল বলতে আর কিছুই থাকত না। ভেবে দেখুন বিবি, আপনি সেরাটাই পেয়েছেন; আপনার চাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটিই এটি।”
এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এই চুক্তিতে ইসরায়েল ‘খুব খুশি’। তবে এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুকে ‘আরও দায়িত্বশীল’ হতে হবে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের কোনও অস্তিত্ব থাকত না। আমাকে ছাড়া ইসরায়েল থাকত না, কারণ অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট আমার মতো পদক্ষেপ নিতে রাজি হতেন না।”
লেবানন অভিযান নিয়ে অনিশ্চয়তা:
ট্রাম্পের এমন কথার মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার স্বাক্ষরিত চুক্তিটিতে ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমিয়ে আনা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশ আগামী ৬০ দিন আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে খসড়া চুক্তিতে ইসরায়েলি হামলা ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের মুখে লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইসরায়েল যেখানে নিজেদের রক্ষা ও লেবাননের কিছু অংশ দখলে রাখার অধিকার দাবি করছে, সেখানে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে, শান্তিচুক্তির অধীনে লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ যুদ্ধ বন্ধ হতে হবে।
ওদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করবেন না বা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন না। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার মার্কিন-ইরান চুক্তির অংশ নয়।
এই চুক্তি নিয়ে নিজ দেশেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইহুদ বারাক সোমবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “নেতানিয়াহুর অহংকার, অন্ধত্ব এবং ট্রাম্পের সঙ্গে চালবাজি করার চেষ্টার মাশুল এখন ইসরায়েলকে দিতে হচ্ছে।”