Published : 26 Jun 2025, 10:22 AM
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে এবং তাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে।
বিবিসি লিখেছে, তার এই বক্তব্য ফাঁস হওয়া এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে হামলার প্রভাব কম দেখানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়েছে- এমনটা তিনি সরাসরি বলেননি।
পেন্টাগনের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়ন ফাঁস হওয়ার পরদিন এই বক্তব্য এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মূল উপাদানগুলো অক্ষত রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন’ হয়েছে।
ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় বুধবার বলেন, “ভুয়া সংবাদের গণমাধ্যম মিথ্যা বলেছে এবং পুরোপুরি বাস্তবতাকে বিকৃত করেছে, যার কোনো তথ্য তাদের ছিল না।”
তিনি বলেন, ‘আমাদের মহান আমেরিকান পাইলটদের মর্যাদা রক্ষায়’ বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে একটি ‘আকর্ষণীয় ও অকাট্য’ সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও অন্য সামরিক কর্মকর্তারা।
বিবিসি লিখেছে, এই সপ্তাহে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের ১২তম দিনে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন।
হেগে নেটো সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে ট্রাম্প বুধবার বলেন, “এই হামলা ছিল অত্যন্ত তীব্র। এটি ছিল সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আগামী সপ্তাহের আলোচনায় ইরানের কাছ থেকে তাদের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষ ত্যাগ করার অঙ্গীকার চাইবেন তিনি। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এমন কোনো আলোচনার কথা স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এনবিসি নেটওয়ার্ককে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগাযোগ হয়েছে।

র্যাটক্লিফের বিবৃতিতে বলা হয়, “সিআইএর কাছে ঐতিহাসিকভাবে নির্ভরযোগ্য উৎস/পদ্ধতির নতুন গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে, যা বলছে ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে কয়েক বছর লেগে যাবে।”
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডও ট্রাম্পের মূল্যায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “ইরান যদি পুনর্নির্মাণ করতে চায়, তাহলে তাদের নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহান-এই তিনটি স্থাপনাই পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে সম্ভবত কয়েক বছর সময় লাগবে।”
ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় শনিবারের অভিযানে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ১২৫টি সামরিক উড়োযান।
নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে ফোরদোর দুটি প্রবেশপথের চারপাশে ছয়টি গর্ত দেখা গেছে এবং একইভাবে ইস্পাহানেও গর্ত দেখা গেছে। তবে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।

পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার একটি প্রতিবেদন মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের কারণে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ‘কেবল কয়েক মাস’ পিছিয়েছে বলে তাতে বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন, ওই মূল্যায়নটি ছিল ‘অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে’।
এই মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, এটি একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন, যা বিশদ তথ্যের ভিত্তিতে পরিবর্তন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে, যেগুলো তাদের মিশন ও দক্ষতার ভিত্তিতে কখনও কখনও পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন তৈরি করে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি বুধবার বলেন, হামলার আগেই হয়ত তেহরান তার ইউরেনিয়াম মজুদের বেশিরভাগ অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি আল জাজিরাকে বলেন, “আমাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এটা নিশ্চিত।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইসরায়েলের পারমাণবিক শক্তি কমিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোরদোর হামলায় ‘স্থাপনাটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।’
সবগুলো স্থাপনার ক্ষতির কারণে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের সম্ভাবনা ‘বহু বছর পিছিয়েছে’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে ইরানের সংসদীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেহেদী মোহাম্মাদি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই বলেন, “ফোরদোতে কোনো অপূরণীয় ক্ষতি হয়নি।”
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলেছিল, তেহরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।