Published : 08 Jul 2026, 09:47 PM
বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত দিয়ে ‘পুশ ইনের’ শিকার চার ভারতীয় নাগরিক জেল খেটে প্রায় এক বছর পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বিএসএফর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন পুলিশের এসআই জামিরুল ইসলাম বলেন, ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে চারজনকে ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। তাদের হস্তান্তরের সময় রাজশাহীতে অবস্থিত ভারতের সহকারী হাইকমিশনের দুই প্রতিনিধি, বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে চার ভারতীয় নাগরিককে তাদের দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভারতে ফিরে যাওয়ারা হলেন- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা গ্রামের সুইটি বিবি, তার দুই ছেলে কুরবান শেখ (১৭) ও ইমাম দেওয়ান (৬) এবং পাইকোর থানার পাইকোর গ্রামের দানিশ শেখ।
২০২৫ সালের ২০ অগাস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর এলাকা থেকে ছয় ভারতীয় নাগরিককে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই শিশুকে বাদ দিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাসপোর্ট আইনে মামলা করা হয়।
আটকের পর তারা পুলিশকে বলেন, দিল্লিতে আটক হওয়ার পর ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের বাংলাদেশি মনে করে কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বিএসএফ।
সেই সময় ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ ও ভারতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে ‘পুশ ইনের’ শিকার সোনালী বিবির বাবার করা রিট আবেদনের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ছয়জনকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
একই বছরের ৫ ডিসেম্বর দানিশ শেখের স্ত্রী সোনালী বিবি ও তাদের এক সন্তানকে ভারতে পাঠানো হয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সোনালী বিবি ও তার সন্তানকে গ্রহণ করলেও দানিশ শেখসহ বাকি চারজনকে সেই সময় গ্রহণ করেনি।
পরে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যোগাযোগ ও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুপ্রবেশের মামলায় ওই চারজন প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা গাইনপাড়ার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের জিম্মায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থাও করা হয়। আদালতের মামলা নিষ্পত্তি ও ট্রাভেল পাসের অনুমোদন শেষে অবশেষে তার নিজ দেশে ফিরে গেলেন।