Published : 08 Jul 2026, 10:45 PM
সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং আইনজীবীদের মত সাংবাদিকদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা সংসদকে বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারত্ব, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সরকার সমর্থন করে না।”
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও ‘শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব’ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
“সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, বার কাউন্সিলের মত সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা, মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতি-নৈতিকতাবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্যকরের বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে।”
গুজব, ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রেস কাউন্সিলের স্বপ্রণোদিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও সংশোধনীতে রয়েছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
“তবে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।”
ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কয়েকটি রিট মামলা উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে বলে তথ্য দেন তিনি।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশ, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচার সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।”
পডকাস্ট, ব্লগিং-ভ্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টের বিষয়বস্তু, প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, “ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”